NNTV
প্রকাশ : Feb 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পলিটিকো জরিপে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে কঠোর বার্তা কানাডিয়ানদের

পলিটিকো পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কানাডিয়ানদের মনোভাব আগের তুলনায় স্পষ্টভাবে বদলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তি ও দূরত্ব বেড়েছে বলে মত দিয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কানাডিয়ান।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা Public First–এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই জরিপে দেখা গেছে, কানাডার একটি বড় অংশ এখন আর যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে দেখছেন না। বরং প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, বিশ্ব শান্তির জন্য রাশিয়ার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রই বড় হুমকি।

জরিপে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির হাজারো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন। ফলাফলে দেখা যায়, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোর অধিকাংশ উত্তরদাতা রাশিয়াকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করলেও কানাডায় ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, ৪৮ শতাংশ কানাডিয়ান উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব শান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা রাশিয়াকে বেছে নেওয়া উত্তরদাতার তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। ৪৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতি, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে টানাপোড়েনপূর্ণ অবস্থান এই মনোভাবের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মন্তব্য, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাব এবং বৈশ্বিক শুল্ক কৌশল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আগেই সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় ‘ফাটল’ দেখা দিচ্ছে। তিনি মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র আর নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়; ৪২ শতাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মোটেও মিত্র নয়। এছাড়া ৫৭ শতাংশ বিশ্বাস করেন সংকটকালে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা যায় না। ৬৭ শতাংশের মত, যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সমর্থন না দিয়ে বরং চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আর ৫৫ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় সব মতাদর্শেই প্রতিফলিত হয়েছে। তবে রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কিছুটা বেশি ছিল। অনেক অংশগ্রহণকারীই মনে করেন, ট্রাম্প-পরবর্তী সময়ে কানাডা–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে অধিকাংশ কানাডিয়ানই জোর দিচ্ছেন—পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলাই দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার মূল চাবিকাঠি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক রহমানের নামে জাল কার্ড ও শফিকুর রহমানের বিকৃত ভিডিও ছড়

1

অন ক্যাম্পাস নিয়োগ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে আইএসইউতে

2

টুঙ্গিপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে উন্মুক্ত বইপাঠ প্রতিযোগিতা

3

নির্বাচনে জয় হোক বা পরাজয় কিন্তু তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত

4

ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন বাংলাদেশ ক্রিকেটার শফিউল ইসলাম

5

মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিকের ট্রেলারেই সৃষ্টি হলো তুমুল উত্তেজ

6

লালমনিরহাটে তাপমাত্রা নেমে ৯ ডিগ্রিতে

7

রাজধানীতে মা-মেয়ে হত্যা: স্বামীসহ গৃহকর্মী রিমান্ডে

8

পিএসজির টিম বাসে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ জন

9

মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে

10

যে সরকার আসুক চীন বাংলাদেশ একসাথে কাজ করবে : প্রধান উপদেষ্টা

11

ঠাকুরগাঁওয়ে ইত্যাদির শুটিংয়ে কী ঘটেছিল, জানালেন হানিফ সংকেত

12

শিল্পকলা একাডেমিতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে নিয়মিত কার্যক্রম

13

সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের উদ্যোগে ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্য

14

আজ দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে মেট্রো রেলের ঢাবি স্টেশন

15

সৌদিসহ আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ করলেন আব্বাস আরগচি

16

আমিরাতের চাকরির বাজার বদলাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতায়

17

লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা ইসরায়েলের

18

ইইউ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ১০৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে ইউক্রেনকে

19

ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় রুশ হামলা

20