NNTV
প্রকাশ : Jan 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে পাত্তা না দিয়েই গ্রিনল্যান্ডে এসে পৌঁছল ইউরোপীয় সেনা

গ্রিনল্যান্ড দখলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে শুরু করেছে ইউরোপের সামরিক শক্তিগুলো। এর অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার ফ্রান্স ও জার্মানির সেনা সদস্যরা গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন।

জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে একটি এয়ারবাসে করে ১৩ সদস্যের একটি নজরদারি দল গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে পৌঁছেছে।

এর আগে বুধবার রাতে ডেনিশ বিমান বাহিনীর একটি বিমান নুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে সামরিক পোশাক পরা সদস্যদের নামতে দেখা যায়।
 
সেনা মোতায়েনে যুক্ত রয়েছে ফ্রান্সও। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, 'ফ্রান্সের প্রথম সামরিক দল ইতোমধ্যে রওনা হয়েছে, আরও যাবে।'

পোল্যান্ডে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত অলিভিয়ে পোয়াভো দাভো বলেন, 'গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করা ফরাসি দলে প্রায় ১৫ জন পর্বত বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে দেখাতে চাই—ন্যাটো এখানে আছে। গ্রিনল্যান্ডে নজরদারি সক্ষমতা বাড়িয়েছে ডেনমার্ক এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।'

জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানায়, ডেনমার্কের অনুরোধে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে একজন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নরওয়ে দুজন ও সুইডেন বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা পাঠাবে।

গ্রিনল্যান্ডসহ আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ সামরিক মহড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করতেই এই সেনা মোতায়েন করছে ডেনমার্ক ও তার মিত্ররা।
 
রয়্যাল ডেনিশ ডিফেন্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মার্ক জ্যাকবসেন রয়টার্সকে বলেন, 'ইউরোপীয় এই সামরিক উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা। এর একটি উদ্দেশ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হস্তক্ষেপ করতে চায়, তাহলে দেখানো যে আমরা গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় প্রস্তুত। আরেকটি উদ্দেশ্য হলো—নিজেদের উপস্থিতি ও নজরদারি জোরদার করা।'

বুধবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
 
এ বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। 

তবে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রশ্নে ওয়াশিংটন এখনো তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।
 
ট্রাম্পের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া বা চীনের প্রভাব ঠেকাতে ডেনমার্ক সক্ষম নয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপটির মালিক হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়। নিরাপত্তা ইস্যু মিত্রদের মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত।
 
এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাবশালী দেশগুলো ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বড় আকারের সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এখন জামিন এর কী দরকার ,যেখানে স্ত্রী-সন্তান বেঁচে নেই

1

বিশ্বের দূষিত শহরের পঞ্চম স্থানে রাজধানী ঢাকা

2

মির্জা আব্বাসের ধৈর্য দেখে আমার বাবার কথা মনে পড়ে: শবনম ফারি

3

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধ

4

দেশের প্রতিটি মাদরাসায় চারটি ফুটবল দল গঠনের নির্দেশ

5

এইচএসসি ২০২৬: নির্বাচনী পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে, মার্চে ফরম পূর

6

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অ্যালেক্সি লিখাচে

7

চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা বাজার ইয়াকুব আলী স্মারক উচ্চ বিদ্যালয়

8

যশোরে দুই দোকানে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিদপ্তর

9

দেশের ৯টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার প্রবণতা রয়েছে

10

মাদারীপুর প্রবীণ সাংবাদিক ইয়াকুব খান (শিশির) আমাদের মাঝে আর

11

ঈদযাত্রা: ৩ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্র

12

আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পাকিস্তানকে রাজি করাতে তৎপর আইসিসি

13

কারামুক্তি পেলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা.

14

উত্তর কোরিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট

15

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রমজান মাসে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যম

16

বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দল খেলবি কি ,খেলবে না

17

রামপুরায় গুলিতে আহত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ কাইল্লা পলাশ মারা গেছে

18

শ্বেতপত্র প্রকাশ করল আইসিটি বিভাগ

19

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ময়মনসিংহের যুবকের মৃত্যু

20