NNTV
প্রকাশ : Jan 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

এখন জামিন এর কী দরকার ,যেখানে স্ত্রী-সন্তান বেঁচে নেই

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের উচ্চ আদালত থেকে জামিন হয়েছে,স্ত্রী-সন্তান এর মৃত্যু পর ।পরিবারে নেই কোনো আনন্দ তারা বলছেন, ‘স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হলো না, এখন জামিন দিয়ে কী হবে?’


জামিনের পর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্তান বাড়ি ফিরে কি দেখবে সেই চিন্তায় অস্থির মা দেলোয়ারা একরাম। তিনি বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হলো না, এখন জামিন দিয়ে কি হবে। 


আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘কতবার চেষ্টা করেছি জামিনের! এক মামলায় জামিন হয় তো আরেক মামলায় ধরে। স্ত্রী-সন্তান মরণের একটা দিন আগেও যদি জামিন পেত তাহলে এই কঠিন দিন আমাদের দেখতে হতো না!’

‘এখন জামিন হওয়া, আর না হওয়া সমান কথা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারপরও জামিন হয়েছে। ভালো কথা, কিন্তু বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে-বউয়ের কবর, তাহলে এই জামিন দিয়ে কি হবে?’



এদিকে প্যারোলে মুক্তি চেয়েও না পাওয়া অমানবিক দাবি করে রাষ্ট্রের কাছে বিচার চান সাদ্দামের শ্বশুর জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার। 

প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির জন্য আমরা আবেদন করছি, কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন এই জামিনের জন্য আমরা সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’

সাদ্দামের শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভ বলেন, ‘এই জামিন দিয়ে কি হবে! এদেশে সব নাটকীয়তা।’

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার বেঞ্চ সাদ্দামের জামিনের আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন।

উল্লেখ্য, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন তিনি।

এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্নালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরের দিন শনিরার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোছল শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। ওই দিন স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১ টা ২০ মিনিটে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বর্নালীর বাবার বাড়ির কবর স্থানে তার ও তার ছেলের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর পরেও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কল না ধরায় ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে অধ্যাপককে হাতুড়ি পেটা

1

সংশ্লিষ্টদের প্রধান উপদেষ্টা: এই নির্বাচনের ফলাফল হবে ভবিষ্য

2

ঢাকায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার

3

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফ্ল্যাটে ঢুকে মা-মেয়েকে হত্যা: যা দেখা

4

২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করল সুইডেন

5

আজ শুরু আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ

6

ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান, কম্পনমাত্রা ৬.২

7

এহছানুল হক মিলন পেয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভায় ডাক

8

পাবনা ১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিতের খবর সঠিক নয়: ইসি

9

রাজধানীর তাপমাত্রা নামল ১৫ ডিগ্রির ঘরে

10

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরে ১৩ বসতঘরে আগুন,আহত

11

ইন্তেকাল করেছেন বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি এবাদুল করিম

12

জামায়াত আমিরের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

13

শুরু হয়েছে হজের ভিসা দেওয়া

14

আইআরজিসি দাবি করেছে, মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা

15

ফেসবুক পোস্টে কীসের ইঙ্গিত দিলেন মাহফুজ?

16

ইরানে মৃতের সংখ্যা ১,৩৩২

17

অভিষেক শর্মা গড়লেন ছক্কার নতুন রেকর্ড

18

আজকে বাংলাদেশি টাকায় মুদ্রা বিনিময় হার

19

নরসিংদীতে তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারকে পরিবহণ মালিক সমিতির ফুলেল

20