স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় শীর্ষক এক আলোচনা সভা হয়েছে আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে। স্বতন্ত্র প্রার্থীবৃন্দ নামক ব্যানারে প্রায় ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যাদের নমিনেশন বাতিল হয়েছে, এ সভায় অংশ নেন।
ঝালকাঠি ২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী সভায় জানিছেন নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় তার স্ত্রীসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে মিথ্যা বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজ্জাক সাহেবকেও গ্রেফতার করা হতে পারে হলে আশংকা করছেন তিনি।
গোপালগঞ্জ ২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট উৎপল বিশ্বাস বলেন, ১% ভোটারের স্বাক্ষর নিতে তাঁর সমর্থকদের অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ম্যাজিস্ট্রেট সহ পুলিশ নিয়ে গিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখান।
গোপালগঞ্জ ২ আসনে মোট ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। ফলে ৬ শতাংশ ভোটারের গোপনীয়তা বিঘ্নিত হয়েছে। এই কালো আইনের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তিনি সহ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে মামলা করেছেন বলে জানান উৎপল বিশ্বাস ।
খুলনা ৪ আসনের প্রার্থী এডভোকেট এস এম আজমল হোসেন অভিযোগ করেন তাঁর নমিনেশন আবেদনের কিছু দলিল একটি বড় দলের কর্মীরা ছিনিয়ে নেন। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করলে উলটো তারা আজমল সাহেবকেই দোষারোপ করেন।
রাজশাহী ৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা মহিলা চেয়ারম্যান শেখ হাবিবা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় প্রশাসন তাঁকে শারিরীক ভাবেও হেনস্তা করেন।
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: আব্দুর রহিম জানান, আওয়ামী লীগ আমলে তাঁর অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। আবার এখনো তাঁকে জীবননাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ ৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম জানান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব বর্তমান নির্বাচন কমিশনই বাস্তবায়ন করতে দেন নাই। তারা রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নমিনেশন নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখতে এই কাজ করেছেন। এমনকি তারা উচ্চ আদালতের রায়কে অবমাননা করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নিবন্ধন দেয় নাই। আবার হাসনাত কাইয়ূমের স্বতন্ত্র প্রার্থীতা রুখে দিতে পুলিশ নিয়ে ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়েছেন।
এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম মামুনের সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে হাসনাত কাইয়ূম আরো বলেন, হাসিনার আমি-ডামি নির্বাচনের মতো এই নির্বাচন কমিশন বিএনপি-জামাত নির্বাচন করতে চায়। তারা এই দুই দল ও জোটের বাইরের সকল দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। যার অনিবার্য পরিনতি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া।
এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হওয়া থেকে শুরু করে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এবং এর যাবতীয় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও এই সরকারকেই নিতে হবে বলে হুশিয়ার করেন হাসনাত কাইয়ূম।