বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, শহিদ হাদির বিচার বাংলাদেশেই হবে এবং বিএনপি সেই বিচার নিশ্চিত করতে চায়। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা একটি পক্ষ হাদির নাম ব্যবহার করে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।
সোমবার বিকালে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
টুকু বলেন, একটি দল ১৭ বছর গোপনে ছিল। তারা কখনো ছাত্রলীগে, কখনো আওয়ামী লীগে ছিল। হাসিনার পতনের পর তারা প্রকাশ্যে এসেছে এবং বিপ্লবী সেজেছে। এখন তারা নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। কখনো দাবি-দাওয়া তুলে নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে। কয়েক দিন আগে দেখা গেছে, হাদির বিচারের নামে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে—আগে বিচার, পরে নির্বাচন।
তিনি বলেন, জামায়াত এখনো ক্ষমতায় যায়নি, অথচ আগেই মন্ত্রী বানানোর ঘোষণা দিচ্ছে। তাহলে কি তারা ষড়যন্ত্র করে হাসিনার মতো ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় যেতে চায়? তারা বলে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে—তাহলে কি আমরা সবাই অসৎ? নির্বাচনকে ঘিরে তারা এক জায়গায় ১০টি করে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছে। এত টাকা তারা কোথা থেকে পায়?
টুকু আরও বলেন, তারা বলে আমাদের সাচ্চা মুসলমান বানাবে—তাহলে কি আমরা মুসলমান নই? তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা বলেছেন, নবীদের মনেও পাপ আছে। তারা মওদুদী ইসলাম কায়েম করতে চায়, আর আমরা মদীনার ইসলাম কায়েম করতে চাই।
তিনি বলেন, কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ধর্মকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না। কোরআন ও আল্লাহর নিষেধ অমান্য করে তারা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাইছে।
সভায় বেলকুচি-চৌহালী আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলীম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাই মিলে ধানের শীষকে বিজয়ী করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হবে। ধানের শীষ বিজয়ী হলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালু করা হবে। তাঁতশিল্প আধুনিকায়ন করে বিশ্ববাজারে তাঁতপণ্য রপ্তানি করা হবে। বেলকুচিতে আইটি পার্ক নির্মাণ করা হবে এবং বেলকুচির মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা হবে। সভায় হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।