NNTV
প্রকাশ : Jun 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে স্বজন-প্রতিবেশীদের সাক্ষীতে উঠে এলো ভয়াবহ বর্ণনা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, ১৯ মে’র সেই বিভীষিকাময় ঘটনার ভয়াবহ চিত্র।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রামিসার বাবা-মা ও বড় বোনসহ একে স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দেন।

আদালতে সাক্ষীরা রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা, রক্তাক্ত ঘরের দৃশ্য এবং অভিযুক্ত সোহেল রানার পালিয়ে যাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন।

রামিসার চাচি আদালতে বলেন, ‘আমার স্বামী ফোন দিয়ে বলেন, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে গিয়ে দেখি বাসায় ভিড় ও কান্নাকাটি চলছে। এরপর অভিযুক্ত সোহেলের ঘরে গিয়ে খাটের নিচে এক পাশে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। তখন পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছিল।’

জেরায় তিনি বলেন, ‘আমি গলাকাটা মরদেহ দেখেছি, ধর্ষণের দৃশ্য দেখিনি।’

রামিসার চাচা মিজানুর রহমান লিটন আদালতে বলেন, ‘আমি মেট্রোরেলে থাকাকালে স্ত্রী ফোন করে জানান, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বাসায় এসে দেখি রক্ত পড়ে আছে। একটি বড় বালতির মধ্যে রামিসার মাথা ছিল। তার গলা ও হাত কাটা ছিল।’ তিনি আদালতে উপস্থিত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে শনাক্ত করেন।

একই ভবনের বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন রামিসার মা সোহেল রানার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রক্ত দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘স্বপ্নাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। ভেতরের আরেকটি গেট তালাবদ্ধ ছিল। সেটি খুলে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই।’

প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজন আদালতে বলেন, ‘রামিসার মা ডাকাডাকি করলে ফিরে আসি। দরজা না খোলায় পরে ভেতরে ঢুকে প্রথমে বাথরুমে কাপড় পড়ে থাকতে দেখি। এরপর রক্ত দেখতে পাই। স্বপ্নাকে জিজ্ঞেস করলে সে কিছু জানে না বলে। পরে খাট উঁচু করে রামিসার মরদেহ দেখতে পাই। একটি বালতির মধ্যে মাথা ছিল।’

গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন আবু সামা নামের এক প্রতিবেশী। তিনি আদালতে বলেন, ‘সকাল প্রায় ১০টার দিকে নাস্তা করছিলাম। তখন দেখি পাশের বাসার জানালা বেয়ে এক ব্যক্তি খালি গায়ে নিচে নামছে। আমি তাকে চোর মনে করে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করি। পরে পাশের বাসা থেকে চিৎকার শুনে গিয়ে রামিসার মরদেহ দেখি।’

জেরায় তিনি বলেন, ‘পরে মিডিয়ায় ছবি দেখে নিশ্চিত হই, জানালা দিয়ে নামা ব্যক্তিই আসামি সোহেল রানা।’

আরেক সাক্ষী মনিরুজ্জামান শাহীন আদালতে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি একটি পাতলা ছুরি এবং বালতির মধ্যে রামিসার মাথা দেখতে পান।

পুলিশ সদস্য রুমা আক্তারও আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে তার সাক্ষ্যের বিস্তারিত অংশ দুপুরে বিরতির পর আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের সাক্ষ্যে ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসে। এছাড়া আসামি সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সাক্ষ্যে তথ্য এসেছে। মামলার ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। দুপুরের বিরতির পর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের ৭ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

1

সাংবাদিক আনিস আলমগীর ৫ দিনের রিমান্ডে

2

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির পক্ষে ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্

3

একই দিনে ‘অ্যাভাটার’ মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশে

4

লেবাননে নিহত ২ প্রবাসীর লাশ গ্রহণ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্

5

বিজয়-রাশমিকার বিয়ে আজ

6

বন্ধুর বিয়েতে ‘জুতা চুরি’ ঠেকিয়ে ভিন্ন রূপে আরিয়ান খান

7

ভোটগ্রহণ চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে

8

গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত হয়েছে উন্নয়নের মতবিনিময় সভা

9

দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১০ জন

10

রোজার পদবি থেকে উধাও ‘খান’

11

কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে পিস্তলসহ ২ যুবক আটক

12

রাজধানীতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে অস্ত্রসহ দুইজন আটক

13

মোস্তাফিজ-নাহিদ যে কারণে পিএসএলে ফিরবেন না

14

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

15

বিসিবি মেনে নিলো আইসিসির সিদ্ধান্ত

16

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে

17

মেহেন্দীগঞ্জে নানাবাড়ির পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

18

মাদারীপুর প্রবীণ সাংবাদিক ইয়াকুব খান (শিশির) আমাদের মাঝে আর

19

ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে বন্দর ব্যবহারের অভিযোগ, ভারতের ম

20