যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। তুরস্কে গত জুলাইয়ের শুরুতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও, গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেই প্রস্তাবে আর সম্মতি দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে পরিকল্পনাটি আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, এটা একটা বড় পদক্ষেপ, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ক্ষেত্রে। তিনি কিছু প্যাট্রিয়ট পেতে চান, কিছু টমাহকও পেতে চান। একটি রক্ষণাত্মত, অপরটি আক্রমণাত্মক।
ট্রাম্প আরও বলেন, মাঝে মাঝে আমাদের সবাইকেই বিচক্ষণতা ও সতর্কতার মাত্রা অনেক বেশি বাড়াতে হয়। এটাও সে রকমই একটি ব্যাপার। আমরা যদিও (ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে) এই নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু (ইউক্রেনকে) এ ধরনের প্রযুক্তি হস্তান্তর করা খুব কঠিন একটি কাজ।
ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আমি কারো সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু ভাবতে চাই না, কিন্তু আপনারা সবাই জানেন যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন বহু মানুষ রয়েছে, যাদের হাতে এ ধরনের উন্নত প্রযুক্তি তুলে দিলে একসময় তারা আপনার বিরুদ্ধে চলে যাবে।
উল্লেখ্য, রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম ও পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট থাকায় ইউক্রেন নিজস্ব উৎপাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়ে আসছিল। তবে ট্রাম্পের বর্তমান সিদ্ধান্তে কিয়েভের সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।