ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারি সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর।
মঙ্গলবার রাজধানী ইসলামাবাদের নিকটবর্তী একটি সামরিক ঘাঁটিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানি প্রেসিডেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
দিনব্যাপী এই সফরে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। পাশাপাশি তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রয়েছে, যেখানে দেশটির একাধিক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা আছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, সফরকালে পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সফরের সময় উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করবে এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধান করবে।
কেন পাকিস্তান সফরে গেলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট?
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক থেকে চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া সফরের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ পেজেশকিয়ান এমন এক সময় ইসলামাবাদ যাচ্ছেন, যখন তার নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই চুক্তি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, যেমনটি দেখা গিয়েছিল ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময়ও।
২০১৫ সালের ঐতিহাসিক জেসিপিওএ (জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন) চুক্তিতে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল। বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ও জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রেজা খানজাদেহ বলেন, “সমঝোতা স্বাক্ষরের পরপরই পেজেশকিয়ানের ইসলামাবাদ সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি এই ভঙ্গুর চুক্তিকে দেশের অভ্যন্তরে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, আঞ্চলিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে চান।”