ময়মনসিংহের ভালুকায় কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই স্কুলের কয়েক লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী নামমাত্র বা কম দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, হবিরবাড়ী ইউনিয়নের সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অব্যবহৃত ইটের খোয়া ও রড বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ৭০ হাজার টাকায়। অথচ এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। বিক্রির অর্থ দিয়ে শিক্ষকদের আনন্দভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে ব্যবহারের পর অবশিষ্ট থাকা ইটের খোয়া ও রড বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বিদ্যালয়েরই সহকারী শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিকের কাছে এসব মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কালাম খান বলেন, বিদ্যালয়ে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার মালামাল ছিল। তার দাবি, পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন এবং প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে এসব মালামাল বিক্রি করা উচিত ছিল।
স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা মসজিদের কাজে ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয়ের এসব মালামাল কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের কিছু না জানিয়েই শিক্ষকরা মালামাল বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মালামাল ক্রেতা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম মল্লিক বলেন, সর্বোচ্চ মূল্য দিয়েই তিনি মালামাল কিনেছেন। নিয়ম মেনেই ডাকের মাধ্যমে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম মানিক বলেন, বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত ও অতিরিক্ত মালামাল যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিধি মোতাবেক বিক্রি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।