অ্যানফিল্ডের দুর্গ ভেঙে সুদীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষা ফুরাল আর্সেনাল। ম্যাচের শুরুর ভাগে কাই হাভার্টজের করা একমাত্র গোলে লিভারপুলকে তাদেরই মাঠে হারিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। এই জয়ে আবারও প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল লন্ডনের ক্লাবটি।
রবিবার রাতে অলরেডদের ডেরায় ১-০ গোলের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল। লিভারপুলের মাঠে লিগে এর আগে সবশেষ ২০১২-১৩ মৌসুমে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল গানাররা।
ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে স্বাগতিক লিভারপুল এগিয়ে থাকলেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা তাদের ডুবিয়েছে। ৫৫ শতাংশের বেশি সময় বল পায়ে রেখে ১৭টি শট নেয় স্বাগতিকরা, কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে এর একটিও লক্ষ্যে ছিল না। বিপরীতে আর্সেনালের ১০টি শটের তিনটি ছিল গোলমুখে।
ম্যাচের ১৬তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী গোলটি পেয়ে যায় আর্সেনাল। নিজেদের অর্ধে লিভারপুল বল হারালে দ্রুত আক্রমণে ওঠে গানাররা।
সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ডেক্লান রাইস। দূরের পোস্টে তার চমৎকার পাসে নিখুঁত এক নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন জার্মান ফরোয়ার্ড হাভার্টজ।
এর আট মিনিট পর আবারও সুযোগ আসে আর্সেনালের সামনে, তবে ব্রুনো গিমারাইসের শট পোস্টে যাওয়ার মুখে শেষ মুহূর্তে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন হাভার্টজ।
পিছিয়ে পড়ে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে লিভারপুল। ৩৯তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভিয়েৎসের দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে সমতায় ফেরা হয়নি তাদের। এর একটু পরই ফাঁকায় থাকা আলেক্সিস ম্যাচ অ্যালিস্টারের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে আবারও হতাশ হতে হয় অলরেড সমর্থকদের।
দ্বিতীয়ার্ধেও সমতায় ফেরার চেষ্টা অব্যাহত রাখে স্বাগতিকরা। তবে আর্সেনালের জমাট রক্ষণের মুখে কোনো নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।
উল্টো ৭৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত; তবে ক্রিস্তস জলিসের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন। শেষ পর্যন্ত হাভার্টজের গোলটিই পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেয় আর্সেনালকে।
এই জয়ে ৯ ম্যাচে আটটিতে জিতে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠল আর্সেনাল। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি।
১৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে ব্রাইটন এবং ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চারে চেলসি। অন্যদিকে মৌসুমে দ্বিতীয় পরাজয়ের স্বাদ পাওয়া লিভারপুল ১৫ পয়েন্ট নিয়ে রইল তালিকার পাঁচ নম্বরে।