রাজশাহীর বাঘায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে পিস্তল সদৃশ একটি খেলনা পিস্তল, একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে বাঘা উপজেলার আড়ানী পিয়াদাপাড়া এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে হাসিবুল হাসান (২৪) এবং মাড়িয়া গ্রামের হাকিমুদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা (৩৩)।
বাঘা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট বিকেলে আটক দুই ব্যক্তি ও তাদের এক সহযোগী আড়ানী পিয়াদাপাড়া গ্রামের আরিফা বেগমের (৩২) বাড়িতে গিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। তাদের কোমরে খেলনা পিস্তল ঝোলানো ছিল। তারা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পুনরায় চাঁদা নিতে গেলে তাদের আচরণে বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দুইজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পরে তাদের কাছ থেকে খেলনা পিস্তল ও কভার, একটি মোটরসাইকেল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এর আগের দিন ৫ আগস্ট দুপুরে একই বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই দুই ব্যক্তি ও তাদের অজ্ঞাতনামা এক সহযোগী নগদ ৬০ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুয়া পুলিশ পরিচয় দিয়ে খেলনা পিস্তল ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা গ্রহণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে বাঘা থানায় মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক হাসিবুল হাসান ২০২০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। চাকরিরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ২০২৫ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর নিজ এলাকায় ফিরে হাসিবুল বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন এবং একটি অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি সহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশের দাবি, ওই চক্রের সদস্যরা নিজেদের বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপকর্ম করে আসছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি সেরাজুল হক জানিয়েছে, মামলা দায়েরের পর শুক্রবার সকালে আটক দুইজনকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে কেউ ভয়ভীতি দেখালে বা সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড নজরে এলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।