মহাবিশ্ব যতটা গ্যালাক্সিতে ভরা, ঠিক ততটাই ভরা রহস্যে। অসংখ্য গ্যালাক্সির মাঝখানে রয়েছে বিশাল বিশাল ফাঁকা অঞ্চল, যেখানে খুব কম গ্যালাক্সি দেখা যায়। এসব অঞ্চলকে বলা হয় কসমিক ভয়েড (মহাজাগতিক শূন্যতা)। এই শূন্য অঞ্চলগুলোর বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করতে যাচ্ছে নাসার ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, দৃশ্যমান মহাবিশ্বে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি থাকতে পারে। এসব গ্যালাক্সি এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে নেই। বরং এগুলো বিশাল বুদবুদের মতো গঠন তৈরি করে। সেই বুদবুদের ভেতরের প্রায় ফাঁকা জায়গাগুলোকেই কসমিক ভয়েড বলা হয়।
গবেষকদের মতে, এই ভয়েডগুলো বোঝা গেলে ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে (মহাবিশ্বের দ্রুত বিস্তার ঘটায় যে রহস্যময় শক্তি) নতুন ধারণা পাওয়া যাবে। কারণ, যেখানে পদার্থ খুব কম, সেখানে ডার্ক এনার্জির প্রভাব বেশি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
রোমান টেলিস্কোপের বিশেষ একটি জরিপ কর্মসূচি—হাই ল্যাটিটিউড ওয়াইড-এরিয়া সার্ভে—এই কাজের জন্য ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে গ্যালাক্সি সমতল থেকে দূরের বিশাল আকাশ অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এতে হাজার হাজার কসমিক ভয়েড শনাক্ত করা যাবে। এর মধ্যে কিছু ভয়েডের আকার হবে প্রায় দুই কোটি আলোকবর্ষ।
রোমান টেলিস্কোপ প্রায় ২ হাজার ৪০০ বর্গডিগ্রি আকাশ পর্যবেক্ষণ করবে। এটা প্রায় ১২ হাজার পূর্ণিমার চাঁদের সমান এলাকা। এটি খুব দূরের ও ক্ষীণ গ্যালাক্সিও শনাক্ত করতে পারবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মহাবিশ্ব কীভাবে গঠিত হয়েছে, কীভাবে বিস্তৃত হচ্ছে এবং ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি কীভাবে কাজ করে—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা আরও সহজ হবে।
মন্তব্য করুন