NNTV
প্রকাশ : Feb 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রোগ-ব্যাধি নিয়ে মুমিনের বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি

রোগের বিষয়ে মুমিনের জন্য জরুরি হলো সঠিক বিশ্বাস রাখা—কারও ওপর দোষ না চাপানো এবং দৃঢ়ভাবে মনে করা যে অসুস্থতা ও সুস্থতা দুটিই আল্লাহর হাতে; তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো চিকিৎসাই কার্যকর নয়।


ইবরাহিম (আ.)-এর ভাষায় কোরআনে এসেছে, ‘এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই (আল্লাহ) আমাকে রোগমুক্ত করেন।’
(সুরা : শুআরা, আয়াত : ৮০)

রোগের নিজস্ব কোনো শক্তি নেই। এমনকি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগও আল্লাহর হুকুম ছাড়া সংক্রমিত হতে পারে না। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ছোঁয়াছে রোগ বা রোগের সংক্রমণ বলতে কিছু নেই, সফর মাসে কোনো কুলক্ষণ নেই এবং প্যাঁচার মধ্যেও কোনো কুলক্ষণ নেই।’ তখন একজন বেদুঈন জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! তাহলে সেই উটপালের অবস্থা কী, যা কোনো বালুকাময় প্রান্তরে অবস্থান করে এবং হরিণের মতো সুস্থ-সবল থাকে। অতঃপর সেখানে কোনো খুজলি-পাঁচড়ায় আক্রান্ত উট এসে পড়ে এবং সবগুলোকে ওই রোগে আক্রান্ত করে ছাড়ে?’ (উত্তরে) তিনি বলেন, ‘তাহলে প্রথম উটটিকে কে রোগাক্রান্ত করেছিল!’ (বুখারি, হাদিস : ৫৭৭০)

অর্থাৎ যে মহান আল্লাহ প্রথম উটটিকে রোগাক্রান্ত করেছিলেন, তিনিই তো অন্য উটকে আক্রান্ত করেছেন। তবে আল্লাহ কোনো রোগে সংক্রমিত হওয়ার গুণ দিয়ে থাকলে তা সংক্রমিত হবে। তখন তা থেকে নিরাপদে থাকতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যেন অবশ্যই অসুস্থ উটকে সুস্থ উটের সঙ্গে না রাখে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৭৭১)

রোগকে তাকদিরের অংশ মনে করা

ঈমানের দাবি হলো, জীবনে নেমে আসা সুখ-দুঃখ, প্রশান্তি-মুছিবত সব কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তাকদিরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা। তদ্রূপ আমাদের রোগ-শোকও তাকদিরের লিখন। আমরা ছোট-বড় যে রোগেই আক্রান্ত হই না কেন, তা আমাদের শুধু জন্মের আগে নয়, রবং এই আকাশ-জমিন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে থেকে আমাদের তাকদিরে লিপিবদ্ধ ছিল। ইবনু আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও জমিন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে সৃষ্টিকুলের তাকদির লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬৫৩)

মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলে দাও, আল্লাহ আমাদের ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন, তা ছাড়া কিছুই আমাদের কাছে পৌঁছবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক। আর আল্লাহর ওপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৫১)

ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, ‘আপতিত বিপদের কবল থেকে বাঁচার অন্যতম চিকিৎসা হচ্ছে, বান্দা এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে, যে বিপদে সে আক্রান্ত হয়েছে তা কখনোই তাকে ছাড়ার ছিল না। আর যেই বিপদে সে পড়েনি, তা আদতে তার তাকদিরে লিপিবদ্ধই ছিল না।’ (জাদুল মাআদ ৪/১৭৪)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

1

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত, দল হারালেন জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল

2

আমাদের মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে রাজপথে চলতে হচ্ছে : হাসনাত

3

পাহাড়ি ঢল ঠেকাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: আসাদুল হাবি

4

আফগানিস্তানে পাকিস্তান করলো বিমান হামলা

5

খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি

6

বগুড়ায় ভেজাল জিরা তৈরির অভিযোগে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

7

নির্বাচনে ভোট ধানের শীষে ৫০, দাঁড়িপাল্লায় পড়েছে ৩২ শতাংশ

8

মুছাপুর ইউনিয়নে দেওয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থী সিরাজুল মামুনের

9

গত ৬ বছরে রুমিন ফারহানার আয় বেড়েছে ২২ গুণ,বেড়েছে ফ্ল্যাট-জমি

10

ট্রেলার মুক্তির আগেই বাজিমাত: ১৫ কোটি টাকার অগ্রিম টিকিট বিক

11

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে

12

পাকিস্তানে শপিংমলে আগুন, ৫ জনের মৃত্যু

13

তারেক রহমানকে গুলশান কার্যালয়ে স্বাগত জানালেন যারা

14

‘এলিয়েনদের জন্য’ ওয়েবসাইট চালু করল যুক্তরাষ্ট্র

15

আজ পিএসএলের ১১তম আসর শুরু

16

ঢাকা-১৭ আসনে ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান

17

চেয়ারম্যান বাচ্চুকে অপসারণের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখি

18

দিয়াবাড়ী মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবা

19

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচন : আপিল বিভাগ

20