নরসিংদীর রায়পুরায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আজ সকালে ২০ আগস্ট, নরসিংদী রায়পুরায় মুসাপুর রামনগরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী এই বীর সন্তানকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে জাতি।
বীর সন্তানের শৈশব কেটেছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর (রামনগর) গ্রামে।
দিবসটি উপলক্ষে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন বেলা ১১ টায় ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। উপজেলা প্রশাসনসহ রাজনৈতিক বিভিন্ন সামাজিক সাংকৃতিক সংগঠন গুলো দিনব্যাপী নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে।
তাঁর স্মৃতিকে ঘিরে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের মাহমুদাবাদ এলাকায় নির্মিত হয় দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল বাংলার ঈগল এবং গ্রামে ২০০৮ সালে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর গড়ে তোলা হলেও দীর্ঘদিনেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে তাঁর পৈতৃক বাড়িও।
১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভারতের পথে রওনা হন মতিউর রহমান। কিন্তু বিমানটি বিধ্বস্ত হলে তিনি শহীদ হন। দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করে তিনি অর্জন করেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’।
মতিউর রহমানের আত্মত্যাগ শুধু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; এটি দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মনিবেদনের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর বীরত্বগাথা আজও নতুন প্রজন্মকে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
শাহাদাতবার্ষিকীতে এই মহান বীরের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করেই গড়ে উঠুক একটি সমৃদ্ধ, স্বাধীন ও মানবিক বাংলাদেশ।