মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার মক্কায় সই হওয়া এ চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সম্মিলিতভাবে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের এক আইনপ্রণেতা। তার দাবি, সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দেশটিকে নিজেদের নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে করা এ ধরনের ‘কাগুজে চুক্তি’ সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বছরের পর বছর একপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখেও সৌদি যে নিরাপত্তা পায়নি, নতুন এই চুক্তিও তাদের সেই নিশ্চয়তা দিতে পারবে না।
সৌদি আরবকে নিজেদের নীতিতে সংস্কার আনার পরামর্শ দিয়ে রেজাই বলেন, এমন নীতি গ্রহণ করা উচিত, যাতে অন্য দেশের কাছে নিরাপত্তা চাইতে না হয়।
তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে চুক্তিটির বিষয়ে তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এর মূল উদ্দেশ্য আত্মরক্ষা। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে করা হয়নি। একই সঙ্গে এই চুক্তির কারণে বিদ্যমান কোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তি বাতিল হবে না কিংবা তার জায়গাও এটি নেবে না।