NNTV
প্রকাশ : Jan 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হবে ঢাকা: ১ পদে ৬২৪ জন

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন এবার রীতিমতো কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। সংখ্যার হিসেবে এই নিয়োগ যেন এক অবিশ্বাস্য বাস্তবতা সামনে এনে দিয়েছে। মাত্র ১ হাজার ১২২টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় সাত লাখ। অর্থাৎ গড়ে একটি পদের জন্য লড়ছেন ছয় শতাধিক প্রার্থী। বাংলাদেশে সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতা যে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, এই একটি তথ্যই তা স্পষ্ট করে দেয়।

প্রধান শিক্ষক পদের প্রতি এই প্রবল আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো বেতন গ্রেডের উন্নয়ন। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদটি ১১তম গ্রেড থেকে উন্নীত হয়ে ১০ম গ্রেডে এসেছে। এতে নিয়োগপ্রাপ্তদের মূল বেতন শুরু হচ্ছে ১৬ হাজার টাকা থেকে, যা সর্বোচ্চ ধাপে গিয়ে দাঁড়াবে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকায়। আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে। বেতন কাঠামোর এই উন্নয়ন এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির ফলে মেধাবী প্রার্থীদের আকর্ষণ বহুগুণে বেড়েছে।

ঢাকায় একক কেন্দ্রে পরীক্ষা

পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়লেও এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি পিএসসি। কমিশনের চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম জানিয়েছেন, প্রায় সাত লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষা আয়োজন করা একটি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা শুধু ঢাকাতেই অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে কমিশন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট। শুরুতে শূন্য পদের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৬৯টি। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের পর এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং মাত্র ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে সরাসরি নিয়োগের জন্য পদের সংখ্যা নেমে আসে ১ হাজার ১২২টিতে। পদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে যাওয়া এবং একই সঙ্গে বেতন গ্রেড উন্নীত হওয়ায় প্রতিযোগিতা পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়।

পরীক্ষার কাঠামো

পিএসসি জানিয়েছে, ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় সফল প্রার্থীরাই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে এই নজিরবিহীন প্রতিযোগিতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। সাত লাখ প্রার্থীর ভিড় থেকে শেষ পর্যন্ত কারা বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করবেন—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইইউ’র সঙ্গে এফটিএর গুরুত্ব তুলে ধরলো বাং

1

অফসাইড বিতর্ক কমাতে বড় উদ্যোগ নিলো ফিফা

2

মুন্সীগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩ বন্ধু নিহত

3

আবারও নতুন করে লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা

4

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪১৭ জন

5

খামেনির মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রকাশ

6

মালয়েশিয়ার সুলতানের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন বাংলাদেশি রাষ্ট

7

লেবানন যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ: বাঘের গালিবাফ

8

মৌলভীবাজার সীমান্তে ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও শক্তিশালী বিস্ফোরক

9

গণভোটকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীসহ ১৬ সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে ই

10

ধূমপানমুক্ত কুড়িগ্রাম জেলার সব ভোটকেন্দ্র

11

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাস শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

12

বানিয়াচংয়ে ব্রিজের পাটাতন ভেঙে পাথরবাহী ট্রাক আটকা, বন্ধ সড়ক

13

সিদ্ধান্তে পরিবর্তন, স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা এনসিপির ত

14

রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় আবারও হামলা করেছে ইউক্রেন

15

রামপুরায় গুলিতে আহত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ কাইল্লা পলাশ মারা গেছে

16

ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে বন্দর ব্যবহারের অভিযোগ, ভারতের ম

17

জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে নাটোর-নওগাঁ মহাসড়কে আগুন, ককটেল-পেট্রল

18

মুসলিম যুব কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা: নতুন কেন্দ

19

ইকুয়েডর ডিফেন্ডার নিহত হয়েছে দুর্বৃত্তের গুলিতে

20