NNTV
প্রকাশ : Jul 29, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যেভাবে কাজ করে ইরানের ‘শ্যাডো ফ্লিট’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরও জোরদার করলেও দেশটির অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তেল রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
 দশকের পর দশক ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তেহরান গড়ে তুলেছে তেল পরিবহনের এক গোপন ও জটিল ব্যবস্থা, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ (ছায়া বহর) নামে পরিচিত। মূলত পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকাণ্ড তেলবাহী জাহাজ বা ট্যাংকার দিয়ে গঠিত এই বহরটি আইনি অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পৌঁছে দিচ্ছে।

এই ছায়া বহরের কাজের ধরন বেশ রহস্যময়। সামুদ্রিক নজরদারি ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এড়াতে এসব জাহাজ প্রায়শই তাদের স্বয়ংক্রিয় অবস্থান শনাক্তকারী প্রযুক্তি বন্ধ রাখে কিংবা ভুয়া অবস্থান সম্প্রচার করে। কর ফাঁকি ও শিথিল আইনি ব্যবস্থার সুবিধা নিতে জাহাজগুলো বারমুডা, লাইবেরিয়া, পানামা বা মার্শাল আইল্যান্ডসের মতো দেশের পতাকা ব্যবহার করে, যা সামুদ্রিক পরিভাষায় ‘ফ্ল্যাগ অব কনভিনিয়েন্স’ নামে পরিচিত। এসব জাহাজের মূল মালিকানা সাধারণত ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত ইরানি ধনকুবের বা চীনসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের আড়ালে ঢাকা থাকে। সমুদ্রের মাঝপথে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে কার্গোর প্রকৃত উৎস গোপন করে তা চূড়ান্ত গন্তব্যে পাঠানো হয়।

ইরানের ওপর জাতিসংঘের সরাসরি তেল নিষেধাজ্ঞার বাধ্যবাধকতা না থাকায় আন্তর্জাতিক আইনে এই বাণিজ্য সরাসরি অবৈধ নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার (সেকেন্ডারি স্যাংশন) কারণে আন্তর্জাতিক মূলধারার শিপিং কোম্পানি ও ব্যাংকগুলো ওয়াশিংটনের শাস্তির ভয়ে ইরানি তেল পরিবহনে অংশ নিতে পারে না। এই চরম অর্থনৈতিক অবরুদ্ধ অবস্থা থেকেই তেহরানের বিকল্প পথ হিসেবে ছায়া বহরের আবির্ভাব ও বিকাশ ঘটেছে।

ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো চীন। যদিও বেইজিং সরকারি নথিতে ইরান থেকে সরাসরি তেল আমদানির কথা স্বীকার করে না, বরং এই তেলকে মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার তেল হিসেবে নথিভুক্ত করে। প্রকৃতপক্ষে, চীনের শানডং প্রদেশের ছোট ছোট বেসরকারি পরিশোধনাগার বা ‘টিপট রিফাইনারি’গুলো মূল্যছাড়ে এবং চীনা মুদ্রা ইউয়ানে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল কিনে থাকে। চীনের বড় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পিছিয়ে থাকলেও এই স্বাধীন রিফাইনারিগুলোই ছায়া বহরের মূল গ্রাহক।

তবে এই ছায়া বহরের বাড়তে থাকা আনাগোনায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ পরিবেশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি। এসব জাহাজের অধিকাংশেরই বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের বেশি, ফলে তেল লিক হয়ে সমুদ্রে ছড়ানোর ঝুঁকি প্রবল। ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ রেখে চলাচলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত নৌ-সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হয়, যেমনটা ২০১৮ সালে চীনের উপকূলে ইরানি সানিচি ট্যাংকারের সংঘর্ষ ও ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ঘটেছিল।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠন করে ছায়া বহর আটকে তৎপরতা বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জাহাজের ফ্ল্যাগ বা নিবন্ধন বাতিল করিয়ে সেগুলোকে আইনগতভাবে অরক্ষিত ঘোষণা ও জব্দের নীতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ছোট পরিশোধনাগারগুলোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া এসব একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে বেইজিং প্রত্যাখ্যান করায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ কেবলই বাড়ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে নবীনবরণ

1

বিশ্বকাপে আলাবার নেতৃত্বে অস্ট্রিয়ার দল ঘোষণা

2

ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ওমান প্রবাসীর

3

আবারও দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

4

নিয়মিত বাদাম খেলে কমতে পারে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি

5

ঢাকায় চলছে গণমাধ্যম সম্মিলন

6

নোয়াখালীর মাদরাসা প্রধান শিক্ষক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে নিয়ে

7

১২০০ ফ্লাইট এক মাসে বাতিল করেছে ইন্ডিগো

8

ইউক্রেনকে পারমাণু দিলে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

9

ইসলামে সন্তান প্রতিপালনের নীতিমালা

10

তেহরানের একাধিক স্থানে বিকট শব্দের বিস্ফোরণ

11

নতুন ছবির প্রস্তুতিতে ২৫ কেজির বেশি ওজন বাড়াচ্ছেন ভিকি

12

শিশুদের হাতে স্মার্টফোন, বাড়বে ঝুঁকি

13

বিভিন্ন আসনে ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে যা সিদ্ধান্ত নিলেন ইসি

14

ধর্ম ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সকল মানুষের পাশে আছে সরকার

15

শেষ বলের ছক্কায় রংপুরকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে সিলেট

16

বডি-সিসি ক্যামেরা ও ড্রন ফুটেজে মাঠ পর্যবেক্ষণ করছে ইসি

17

নয় জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ

18

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাকের ১৫ বছরের কারা

19

মদনপুরে বুলবুল হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অ

20