বিশ্ব ক্যান্সার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল লিমিটেড-এর উদ্যোগে বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগের বর্তমান পরিস্থিতি, বিস্তার, প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ পদ্ধতি এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সেমিনারে চিকিৎসা পেশাজীবীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়।
প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল লিমিটেড-এর সম্মানিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ডা.) এ কে এম নাসির উদ্দিন (অব.) এমফিল, এমপিএইচ, এমবিবিএস)-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সম্মানিত সিভিল সার্জন ডা. এ. এফ. এম. মুশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান। এছাড়াও সম্মানিত পরিচালক ডা. কামরুন নাহার, ডা. আবুবকর সিদ্দিক, মো. রাশেদজ্জামান এবং আবু নাঈম মো. রাফী উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
সেমিনারে দেশের বহুজাত দ্রুত সংক্রমণ ও মারাত্মক রোগ ক্যান্সারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোকপাত করেন তিনজন খ্যাতনামা চিকিৎসক। প্রফেসর ডা. এ. বি. এম. ইউনুস 'লাইফস্টাইল অ্যান্ড ব্লাড ক্যান্সার' বিষয়ে আলোকপাত করেন। প্রফেসর ডা. আব্দুস সালাম কোলন ক্যান্সার, এর শনাক্তকরণ ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। গাইনি ও অবস বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুন নাহার বাংলাদেশে সার্ভিক্যাল ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের বর্তমান পরিস্থিতি, স্ক্রিনিং, প্রতিরোধ ও দ্রুত শনাক্তকরণ এবং উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
আলোচনায় ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ নির্ণয়, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা জনগণ এর নিকট সহজলভ্য করণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও উন্নত পরিবেশে জীবনযাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
উক্ত সেমিনারে নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্পোরেট ও শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন মিল-কারখানার চিকিৎসক, প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট, নবীন চিকিৎসকসহ অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন চিকিৎসকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেমিনার শেষে উপস্থিত চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি আনন্দঘন পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। পিঠা উৎসবটি উপস্থিত সকলের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
মন্তব্য করুন