NNTV
প্রকাশ : Jan 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গ্যাস সংকটের দিনে ইলেকট্রিক চুলা: ইনডাকশন ও ইনফ্রারেডের তুলনা

গ্যাসের সংকটে বিকল্প রান্নার উপায় হিসেবে ইন্ডাকশন চুলা ও ইনফ্রারেড চুলার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ইন্ডাকশন চুলা এবং ইনফ্রারেড চুলার মধ্যে সাধারণত ইন্ডাকশনকেই অনেক বেশি ভালো মনে করা হয়, কারণ এটি দ্রুতগতির রান্না করে, বিদ্যুৎ কম খরচ  এবং নিরাপদে ব্যবহারযোগ্য। তবে ইনফ্রারেডও তার নিজস্ব সুবিধা নিয়ে আছে, বিশেষ করে যদি আপনার রান্নার পাত্রগুলো বিভিন্ন ধরনের হয়। দেখতে প্রায় একই হলেও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে এই দুই চুলার কার্যপ্রণালী, শক্তি দক্ষতা ও ব্যবহারিক সুবিধায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।

কীভাবে তৈরি হয় তাপ

ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার মৌলিক পার্থক্য তাদের তাপ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায়।

ইনডাকশন চুলা কাজ করে ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইনডাকশন’ বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ প্রক্রিয়ায়। চুলার ভেতরে থাকা কপার কয়েল উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, যা সরাসরি রান্নার পাত্রের অণুগুলোকে উত্তপ্ত করে। এতে চুলার গ্লাস টপ নিজে গরম না হয়ে কেবল পাত্রেই তাপ উৎপন্ন হয়।

অন্যদিকে, ইনফ্রারেড চুলা তাপ উৎপন্ন করে ‘ইনফ্রারেড রেডিয়েশন’ বা অবলোহিত বিকিরণের মাধ্যমে। এর ভেতরে থাকা রেজিস্ট্যান্স কয়েল বা হ্যালোজেন ল্যাম্প প্রথমে নিজে গরম হয়। সেখান থেকে ইনফ্রারেড রশ্মি গ্লাস টপ পেরিয়ে রান্নার পাত্রে তাপ সরবরাহ করে।

পাত্র ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা

ইনডাকশন চুলার ক্ষেত্রে পাত্র নির্বাচনে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যেহেতু এটি চৌম্বক ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল, তাই এতে কেবল লোহা বা ফেরোম্যাগনেটিক স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা যায়। অ্যালুমিনিয়াম বা কাচের পাত্র এতে কাজ করে না।

ইনফ্রারেড চুলায় এই সীমাবদ্ধতা নেই। তাপ বিকিরণের মাধ্যমে কাজ করায় অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, তামা, কাচ এমনকি মাটির পাত্রও ব্যবহার করা যায়।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কোনটি এগিয়ে

শক্তি দক্ষতার দিক থেকে ইনডাকশন চুলা এগিয়ে। গবেষণা অনুযায়ী, ইনডাকশন চুলার কার্যকারিতা প্রায় ৯০ শতাংশ। কারণ তাপ সরাসরি পাত্রে তৈরি হওয়ায় অপচয় খুব কম।

ইনফ্রারেড চুলায় কয়েল থেকে গ্লাস এবং গ্লাস থেকে পরিবেশে কিছু তাপ নষ্ট হয়। ফলে এর দক্ষতা গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে তাই ইনডাকশন চুলা তুলনামূলকভাবে লাভজনক।

নিরাপত্তা ও ব্যবহারিক সুবিধা

নিরাপত্তার প্রশ্নে ইনডাকশন চুলা বেশি নিরাপদ। রান্না শেষে চুলার উপরিভাগ দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম।

ইনফ্রারেড চুলার গ্লাস টপ রান্নার পরও কিছু সময় গরম থাকে। তবে এতে সরাসরি রুটি সেঁকা বা ঝলসানোর মতো কাজ করা যায়, যা ইনডাকশন চুলায় সম্ভব নয়।

গ্যাস সংকটে কোনটি উপযোগী

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান গ্যাস সংকটে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় ইনডাকশন চুলা বিজ্ঞানসম্মতভাবে উত্তম। তবে যারা সব ধরনের রান্নার পাত্র ব্যবহার করতে চান বা রান্নার ধরনে বেশি স্বাধীনতা চান, তাদের জন্য ইনফ্রারেড চুলা একটি কার্যকর বিকল্প।

সঠিক পাত্র ও সচেতন ব্যবহারে ইলেকট্রিক চুলা শুধু গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নয়, বরং পরিবেশবান্ধব রান্নার পথও দেখাতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চেয়ারম্যান বাচ্চুকে অপসারণের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখি

1

হবিগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত ৩

2

শবে বরাত উপলক্ষে ঢাকায় আতশবাজি-পটকা নিষেধাজ্ঞা

3

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জন্য অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় শ

4

দোকানদার ছাড়াই যে গ্রামে দোকান চলে

5

এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন

6

সিলেটে যুবক খুন, নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি গ্রেফতার

7

আজ তারেক রহমানের জনসভা ঢাকার ৬ স্থানে

8

৪০ বছর পর আবারও একসাথে অমিতাভ-কমল

9

রিয়াল নিঃশ্বাস ফেলছে বার্সেলোনার ঘাড়ে

10

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কাস্তে মার্কায় ভোট চেয়ে গণসংয

11

রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ না হলে কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, প্র

12

টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যে যে এলাকায়

13

হাদি হত্যা মামলায় চার্জশিট শুনানি বৃহস্পতিবার

14

চীন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলো গরুর মাংস আমদানিতে

15

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা

16

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থেকে ২৭ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

17

২০২৬ সালে বিয়ের আগেই হানিয়ার বিচ্ছেদ হবে

18

কাতারের দোহায় হবে মেসি-ইয়ামালের লড়াই

19

৮ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্র

20