গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। সে সময় বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ তুলে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, গত সপ্তাহে ইরানে হামলা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছিল। তবে ঠিক সেই সময় দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে অনুরোধ জানান, যেন আপাতত ইরানে হামলা না চালানো হয়। কারণ, এই মুহূর্তে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় ইসরায়েলের পর্যাপ্ত শক্তি ও প্রস্তুতি নেই বলে তিনি জানান।
প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ জানিয়েছে।
ইরান হুমকি দিয়েছিল যদি তাদের ওপর কোনও হামলা হয় তাহলে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে গুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, গত সপ্তাহে ইরানে হামলা না চালানোর বড় কারণ ছিল, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি না থাকা। বিশেষ করে ইরানের পাল্টা হামলা ঠেকানোর মতো সক্ষমতা তখন ছিল না। দখলদার ইসরায়েল মূলত ইরানের হামলা ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।
গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান যেসব ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল সেগুলো ঠেকাতে কাজ করেছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, গত বুধবার ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ধরেই নিয়েছিলেন যেকোনও সময় হামলা শুরু হবে। কিন্তু সেটি আর হয়নি।
এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের কাছে একটি খুদেবার্তা পাঠান। তার ওই বার্তার মাধ্যমেও পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা করা হয়।
মন্তব্য করুন