বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) অধীনে হবিগঞ্জ ৫ নম্বর কূপের ওয়ার্কওভারের (সংস্কার কাজ) কাজ শেষে গত বুধবার থেকে জাতীয় গ্রিডে আরও ১২ মিলিয়ন গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কূপটি থেকে দৈনিক ২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বুধবার বিকেল ৫টার দিকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পেট্রো বাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন ও প্রকল্প পরিচালক ইসমাইল মোল্লাসহ বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড এবং বাপেক্সের কর্মকর্তারা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, হবিগঞ্জ ৫ নম্বর কূপটি ১৯৮৮ সালে খনন করা হয়। ওই সময় থেকে কূপটি থেকে দৈনিক ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছিল। পরে ধীরে ধীরে এই কূপ থেকে গ্যাসের চাপ অনেকটা কমে আসে। পরে ৫২০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ৭টি কূপ ওয়ার্কওভারের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জ ৫ নম্বর কূপটি গত ২৪ নভেম্বর থেকে ওয়ার্কওভারের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। পরে ২৭ নভেম্বর কাজ শেষ হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, হবিগঞ্জের মোট ১১টি কূপের মধ্যে ৭টি চালু আছে। এখন ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, ত্রিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র খনন করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৫০টি কূপ খনন সম্পন্ন করা হবে। এটি ছিল ৫০টি কূপের একটি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হবিগঞ্জ ৫ নম্বর কূপটি নিয়ে মোট ২১টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। আরও ২৯টি কূপের কাজ চলমান রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে আরও ৪টি কূপের কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া ২০২৬ সাল থেকে ২৮ সালের মধ্যে ১০০ কূপ খনন করা হবে। পাশাপাশি পুরাতন কূপগুলোকে ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দেশের শিল্পকারখানাগুলো আরও সচল হবে।
মন্তব্য করুন