‘পৌষের শীত মোষের গায়, মাঘের শীতে বাঘ পালায়’- মাঘ মাসের তীব্র শীতে বাঘ পর্যন্ত কাবু হয়, এই প্রবাদের সঙ্গে প্রকৃতির আচরণে এবার যেন খানিকটা অমিল। মাঘের শুরুতেই প্রকৃতিতে পরিবর্তনের হাওয়া। হাড়কাঁপানো কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশার দাপট কাটিয়ে শীত কি তবে বিদায় নিতে শুরু করেছে?
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, এই সময়ের অন্যান্য বছরের তুলনায় শীতের তীব্রতা কম অনুভূত হওয়ার মূল কারণ হলো বাতাসে আদ্রতার বৃদ্ধি, উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বায়ু প্রবাহ এবং কুয়াশা কমে যাওয়া।
আফরোজা সুলতানা বলেন, 'গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছিতে ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'বদলগাছিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হলেও সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান বেশি হওয়ায় শীত কম অনুভূত হচ্ছে।'
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, 'এবার বাতাস অনেকটাই আদ্র। এর ফলে ঠোঁট ফাটার মতো শীতজনিত সমস্যাও কম দেখা যাচ্ছে। পৌষ মাসের শেষ দিকে কুয়াশার প্রকোপ বেশি থাকায় শীত বেশি অনুভূত হয়েছিল। কিন্তু এখন বেলা বাড়লেই কুয়াশা অনেকটাই কেটে যাচ্ছে এবং ঝলমলে রোদ দেখা যাচ্ছে।'
তিনি জানান,'অন্য বছর এ সময় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শীতল বাতাসের প্রবাহ থাকলেও বর্তমানে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে। এসব কারণে শীত কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে। আগামী কিছু দিন এ অবস্থা বজায় থাকার সম্ভাবনা আছে।'
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বুধ থেকে রবিবার পর্যন্ত আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন