রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাসডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মোট ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চালকসহ তিনজনের লাশ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এখন পর্যন্ত যে ২৪ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে তারা হলেন- রাজবাড়ী পৌরসভার লালমিয়া সড়ক ভবানীপুর এলাকার রেহেনা আক্তার, তাঁর ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান, কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মজমপুর গ্রামের মর্জিনা খাতুন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের রাজীব বিশ্বাস, রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের জহুরা অন্তি, একই মহল্লার কাজী সাইফ, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের মর্জিনা আক্তার, তাঁর মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের শিশু সন্তান ইস্রাফিল, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সন্তান ফাইজ শাহানূর, রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা মহল্লার কেবিএম মুসাব্বিরের শিশু সন্তান তাজবিদ, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের গাড়িচালক আরমান খান, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মহেন্দপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের নাজমিরা ওরফে জেসমিন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের লিমা আক্তার, একই ইউনিয়নের চর বেনিনগর গ্রামের জোৎস্না, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার আমতলী ইউনিয়নের নোয়াধা গ্রামের মুক্তা খানম, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের নাছিমা, ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের আয়েশা আক্তার, রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার শিশু সন্তান সোহা আক্তার, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিনের শিশু সন্তান আয়েশা সিদ্দিকা, ঝিনাইদহর শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের শিশু সন্তান আরমান, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের শিশু সন্তান আব্দুর রহমান ও রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশি ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের শিশু সন্তান সাবিত হাসান (৮) এবং উজ্জ্বল নামের এক ফল ব্যবসায়ী।
এর আগে, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। পরে বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে ডুবে যাওয়া বাসটি টেনে তোলা হয়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জনায়, তলিয়ে যাওয়া বাসটি নদীর ৮০-৯০ ফিট গভীরে ছিল। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে বাসটি ধীরে ধীরে উপরে তোলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কয়েকজন সেই বাস থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলের সহযোগিতায় বাসটি উদ্ধার করা হয়। এ কাজে ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা যুক্ত রয়েছে। স্থানীয় ডুবুরিরাও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন।
এদিকে, বাস দুর্ঘটনায় বুধবার মধ্যরাতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন থেকে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক এবং গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।