NNTV
প্রকাশ : Jan 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গাজায় তীব্র শীতে মৃত্যু  সংখ্যা  বেড়ে  দাড়িয়েছে ২৪,প্রাণ হারিয়েছে ২১ শিশু

তীব্র শীত ও হিমাঙ্কছোঁয়া তাপমাত্রায় জমে গাজার   মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই শিশু। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। চলমান শীত মৌসুমের শুরু থেকেই তীব্র ঠান্ডার কারণে সাতজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যা গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যাকে এই ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। নিহতদের সবাই বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি ছিলেন এবং তারা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, গাজায় বর্তমানে বয়ে যাওয়া নিম্নচাপ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৭ হাজার তাবু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। দেইর আল-বালাহসহ বিভিন্ন এলাকায় তাবুগুলো প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ে ভেসে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। 

ইসরায়েলি অবরোধ ও নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর অধিকাংশ এখন ধ্বংসস্তূপ। বর্তমানে ১৫ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি এমন সব ক্যাম্পে বাস করছেন যেখানে বেঁচে থাকার ন্যূনতম পরিবেশটুকুও নেই। হিমাঙ্কছোঁয়া এই তাপমাত্রা ফিরে আসায় বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মতো অসহায় গোষ্ঠীগুলোর জীবনের ওপর বড় ধরণের হুমকি তৈরি হয়েছে।

মিডিয়া অফিস সতর্ক করে বলেছে, গাজায় বর্তমানে গরম কাপড়ের তীব্র সংকট এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে মানবিক সহায়তা ও জ্বালানি প্রবেশ করতে না পারায় সেখানে কোনো ধরনের হিটিং ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

গাজা সরকার এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছে এবং একে ‘ধীরে ধীরে হত্যা, অনাহার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির’ একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পর্যাপ্ত কম্বল ও শীতবস্ত্রের অভাবে শিশুদের মৃত্যুহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলি আগ্রাসনে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে। 

যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকেও নতুন করে ৪৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ২৪৬ জন আহত হয়েছেন। এই বিরূপ আবহাওয়ায় ত্রাণ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে আরও বড় ধরণের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাজা উপত্যকায় স্টেডিয়াম নির্মাণে ৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে ফিফা

1

নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত জেলেনস্কি

2

রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় কাঁপল ইউক্রেনের রাজধানী, নিহত ১৩

3

এআইইউবিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

4

বিশ্ব বাজারে চালের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কম ,দেশে প্রতিফলন নেই

5

আজও ধানের শিষের প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

6

ফ্রান্সে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধে ফ্রান্সে আ

7

মহাকাশে বাড়ছে 'ই-আবর্জনা

8

কৃষ্ণ সাগরে তুরস্কের ট্যাংকারে হামলা

9

সরকারি চাকরিজীবীদের মিলবে টানা ৪ দিনের ছুটি

10

মাউশির নির্দেশনা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য

11

দুবাই বন্যার কবলে পড়েছে

12

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের

13

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধা

14

আজ জুলাই স্মরণে বিএনপির আলোচনা সভা, বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্

15

লক্ষ্মীপুরে ভুয়া সিল জব্দের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ১

16

প্রতি ভরি স্বর্ণ যে দামে কেনা যাবে

17

কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা

18

সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকট

19

এমবাপ্পেকে পেছনে ফেললেন মেসি

20