NNTV
প্রকাশ : Jan 13, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গাজায় তীব্র শীতে মৃত্যু  সংখ্যা  বেড়ে  দাড়িয়েছে ২৪,প্রাণ হারিয়েছে ২১ শিশু

তীব্র শীত ও হিমাঙ্কছোঁয়া তাপমাত্রায় জমে গাজার   মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই শিশু। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। চলমান শীত মৌসুমের শুরু থেকেই তীব্র ঠান্ডার কারণে সাতজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যা গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যাকে এই ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। নিহতদের সবাই বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি ছিলেন এবং তারা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, গাজায় বর্তমানে বয়ে যাওয়া নিম্নচাপ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৭ হাজার তাবু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। দেইর আল-বালাহসহ বিভিন্ন এলাকায় তাবুগুলো প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ে ভেসে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। 

ইসরায়েলি অবরোধ ও নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর অধিকাংশ এখন ধ্বংসস্তূপ। বর্তমানে ১৫ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি এমন সব ক্যাম্পে বাস করছেন যেখানে বেঁচে থাকার ন্যূনতম পরিবেশটুকুও নেই। হিমাঙ্কছোঁয়া এই তাপমাত্রা ফিরে আসায় বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মতো অসহায় গোষ্ঠীগুলোর জীবনের ওপর বড় ধরণের হুমকি তৈরি হয়েছে।

মিডিয়া অফিস সতর্ক করে বলেছে, গাজায় বর্তমানে গরম কাপড়ের তীব্র সংকট এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে মানবিক সহায়তা ও জ্বালানি প্রবেশ করতে না পারায় সেখানে কোনো ধরনের হিটিং ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

গাজা সরকার এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছে এবং একে ‘ধীরে ধীরে হত্যা, অনাহার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির’ একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পর্যাপ্ত কম্বল ও শীতবস্ত্রের অভাবে শিশুদের মৃত্যুহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলি আগ্রাসনে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে। 

যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকেও নতুন করে ৪৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ২৪৬ জন আহত হয়েছেন। এই বিরূপ আবহাওয়ায় ত্রাণ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে আরও বড় ধরণের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভূমিকম্পে বাড়ছে জনমনে শঙ্কা

1

উত্তপ্ত ভারতের আসাম, সহিংসতায় নিহত ২

2

হাদি হত্যা: ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কারাগারে

3

চাঁদপুর সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে ধানের শীষের সমর্থনে গণমিছিল

4

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাংস ব্যবসায়ীকে হত্যা

5

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে চিতাবাঘ আতঙ্কে স্থানীয়রা

6

অহেতুক হাত পাতা: নিন্দার যোগ্য

7

বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশ রবিবার

8

বসুন্ধরা শুভসংঘ দাঁড়াল হতদরিদ্র ছত্তারের পাশে

9

মুফতি ফয়জুল করীমের আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত

10

দেশে স্বর্ণের বাজারে দাম আবার কমলো

11

সুদানে আরএসএফের হামলার নিন্দা জানাল সৌদি আরব

12

জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে গেল ইসলামী আন্দোলন, একক নির্বাচনের ঘ

13

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যুক্ত হতে পারবেন না সাংবাদিকতা-আইন পেশায়

14

হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ৪ জন

15

ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যায়, হতাহতের শঙ্কা

16

কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের কাস্তে মার্কায়

17

খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে যাচ্ছেন যে ১৪ জন

18

নিজের প্রয়োজনে অন্যকে ক্ষমা করুন

19

তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ইসির বৈঠক

20