NNTV
প্রকাশ : Jan 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারেও মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট স্টারলিংকসহ অনুমোদনহীন যেকোনো বৈদ্যুতিক যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে কঠোর শাস্তির বিধান আরোপ করেছে ইরান। নতুন আইনের আওতায় এই প্রযুক্তি ব্যবহারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজা হতে পারে।

ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিল্টারওয়াচ জানায়, ইরানে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আর নাগরিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে না। বরং এটি সরকারের দেওয়া একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে গণ্য হবে। এই ব্যবস্থায় কেবল নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত বা সরকারি যাচাই প্রক্রিয়া উত্তীর্ণ ব্যক্তিরাই সীমিত ও ফিল্টার করা বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

ফিল্টারওয়াচের প্রধান আমির রাশিদি বলেন, সাধারণ নাগরিকদের জন্য চালু করা হবে একটি জাতীয় ইন্টারনেট, যা পুরোপুরি দেশীয় এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন। এই জাতীয় ইন্টারনেট হবে সরকার নিয়ন্ত্রিত সমান্তরাল নেটওয়ার্ক, যেখানে কেবল সরকার অনুমোদিত সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ ও দেশীয় স্ট্রিমিং সেবার ব্যবহার সম্ভব হবে।

ডিজিটাল অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এই নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীন ও হুয়াওয়ের উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে।

এরই মধ্যে গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেশটিতে কার্যকর ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এই সময়সীমা ২০১১ সালে মিসরের তাহরির স্কয়ার আন্দোলনের সময়কার ইন্টারনেট শাটডাউনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ২০ মার্চ ইরানি নববর্ষ নওরোজ পর্যন্ত এই ব্ল্যাকআউট বহাল থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাময়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

এই প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভকারীদের কাছে শেষ ভরসা হয়ে উঠেছিল ইলন মাস্কের স্টারলিংক সেবা। তবে ২০২৫ সালে পাস হওয়া নতুন আইনে স্টারলিংক টার্মিনাল রাখা রাষ্ট্রবিরোধী গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। একই সঙ্গে তেহরানের আকাশসীমায় রুশ ও চীনা প্রযুক্তির জ্যামার ব্যবহার করে স্টারলিংক সিগন্যাল ব্যাহত করার চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৯ সালে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পুনর্নির্বাচনের পর বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধের অভিজ্ঞতা থেকেই ইরান ধীরে ধীরে দেশীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থার দিকে এগোয়। ২০১২ সালে সুপ্রিম কাউন্সিল অব সাইবারস্পেস গঠনের পর সেই পরিকল্পনা আরও গতি পায়। বর্তমান পরিস্থিতি সেই দীর্ঘ পরিকল্পনারই চূড়ান্ত রূপ।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

1

জামায়াত আমিরের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

2

আবারও বিশ্ববাজারে বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

3

জানুয়ারিতে ২,২৭১ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুদক

4

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন বগুড়া সিটি করপোরেশন

5

ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারেও মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি

6

জাপানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে মেগা ভূমিকম্পের

7

রুপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্র

8

ঢাকার গুলশানে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

9

কানাডায় আয়োজিত হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

10

বিএনপি খালেদা জিয়ার দেখানো পথে চলবে:রিজভী

11

আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম নফল নামাজ

12

আজ মাদুরোকে তোলা হবে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে

13

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৫০ দৌড়বিদ হাফ ম্যারাথনে

14

আগামী ৫ দিনের আবহাওয়া যেমন থাকবে

15

কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে পিস্তলসহ ২ যুবক আটক

16

ফতুল্লায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিতে গিয়ে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪

17

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৩৫ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

18

নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি চায় সাধারণ শিক

19

ইরান বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

20