ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পথ সহজ করতে ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ অনুমোদন দিয়েছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার তুর্কি আইনসভায় পাকিস্তানের পাশাপাশি সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান প্রতিরক্ষা সমীকরণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
চলতি বছরের গত ৭ আগস্ট চুক্তিটি সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। শীর্ষ সম্মেলন শেষে তিন দেশের নেতারা যৌথভাবে চুক্তি সাক্ষরের মুহূর্ত উদ্যাপন করেন এবং গত মাসে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তুর্কি পার্লামেন্টে পাঠানো হয়।
তিনটি আঞ্চলিক পরাশক্তির মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো যৌথ প্রতিরক্ষা ও পারস্পরিক সুরক্ষার অঙ্গীকার। অনুমোদিত চুক্তিটির আওতায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্বাক্ষরকারী তিনটি দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা চালানো হলে তা চুক্তিভুক্ত সবকটি দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই শর্তের মাধ্যমে তিনটি দেশের যেকোনো একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর হুমকি এলে সামরিকভাবে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি ভিত্তি তৈরি হলো।
চুক্তির আওতায় সৌদি ভূখণ্ডে তুর্কি সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও অত্যন্ত জোরালো হয়ে উঠেছে। তুর্কি ক্ষমতাসীন দলের এক আইনপ্রণেতা গত মাসে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছিলেন যে, এই প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্তানুসারে সৌদি আরবে সরাসরি সামরিক বাহিনী পাঠানোর পথ উন্মুক্ত করতে শীঘ্রই তুর্কি পার্লামেন্টে একটি বিশেষ সামরিক প্রস্তাব বা ম্যান্ডেট পাস করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।