NNTV
প্রকাশ : Feb 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আসছে হেলিকপ্টারের বিকল্প বাহন

প্রযুক্তির বিবর্তনের অমোঘ নিয়মে পুরাতনকে ঝেড়ে ফেলে সবসময় আবির্ভাব ঘটে নতুনের। আকাশপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কি তবে হেলিকপ্টারের দিন ফুরিয়ে আসছে? যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান ‘এআরসি অ্যারোসিস্টেম’ অন্তত তেমনটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কয়েক দশক আগের একটি পুরনো প্রযুক্তিকে নতুন মোড়কে ফিরিয়ে এনে আকাশপথের যাতায়াতে বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে তারা।

তাদের তৈরি পেগাসাস নামক ভার্টিকাল টেক-অফ জাইরোকপ্টারটি বর্তমানে হেলিকপ্টারের একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই যানটি হেলিকপ্টারের মতো খাড়াভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারলেও এর কার্যপদ্ধতি অনেকটাই ভিন্ন। এতে থাকা ওপরের রোটর বা পাখাটি ইঞ্জিনের বদলে বাতাসের চাপের সাহায্যে ঘোরে। ফলে এটি যান্ত্রিকভাবে অনেক বেশি সহজ। 

এআরসি অ্যারোসিস্টেমের প্রধান নির্বাহী ড. সাইয়্যেদ মোহসেনি জানান, তারা আসলে ষাটের দশকের একটি বিস্মৃত নকশাকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তৎকালীন ‘অ্যাভিয়ান ২/১৮০’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই পেগাসাসে ব্যবহার করা হয়েছে হাইব্রিড-ইলেকট্রিক ইঞ্জিন। সাধারণ জাইরোকপ্টারের উড্ডয়নের জন্য রানওয়ের প্রয়োজন হলেও পেগাসাস অনেকটা লাফিয়ে ওঠার মতো করে সরাসরি আকাশে উড়াল দিতে পারে। হেলিকপ্টারের তুলনায় এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম। এটি পরিচালনা করাও বেশ সস্তা। যেখানে একটি সাধারণ হেলিকপ্টার মিশনে হাজার হাজার ডলার খরচ হয়, সেখানে পেগাসাসের প্রতি ঘণ্টার পরিচালনা ব্যয় কয়েকশ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা সেবা বা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে এই যানটি বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও এটি হেলিকপ্টারের চেয়ে কিছুটা ধীরগতির এবং এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। তবে এটি বর্তমানের ৯০ শতাংশ হেলিকপ্টার মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম। আকাশযানটির অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর নিরাপত্তা। মাঝ আকাশে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলেও এর পাখাগুলো বাতাসের তোড়ে ঘুরতে থাকে, যা যানটিকে প্যারাসুটের মতো ধীরে ধীরে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসতে সাহায্য করে।

তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারোস্পেস সায়েন্সের শিক্ষক ড. ডগলাস থমসনের মতে, জাইরোকপ্টারগুলো সাধারণত আকারে ছোট হয় এবং যাত্রী সংখ্যা বাড়াতে গেলে এর রোটর বা পাখার আকার অস্বাভাবিকভাবে বড় করতে হয়। এছাড়া এর বিশেষ উড্ডয়ন পদ্ধতিটি বেশ জটিল হওয়ায় পাইলটদের বাড়তি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন পড়বে। তবুও অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা জরুরি পণ্য পরিবহনের মতো সময়সাপেক্ষ কাজে এটি অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

এরই মধ্যে বিভিন্ন চ্যারিটি সংস্থা এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কয়েক ডজন পেগাসাসের আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বড় অংকের বিনিয়োগ নিশ্চিত করে আগামী তিন বছরের মধ্যে এই যানটি বাণিজ্যিকভাবে আকাশে উড়বে বলে স্বপ্ন দেখছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।



মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক রহমান ভোটার হবেন ২৭ ডিসেম্বর

1

এক মামলায় দীপু মনির জামিন, ছয় মামলায় হাইকোর্টের রুল জারি

2

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ব্যাংকসহ চারটি প্রতিষ্ঠানে চুরি

3

ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে যাত্রীবাহী বাস নদীতে, প্রাণ গেল ২৪ জনের

4

আজ দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে মেট্রো রেলের ঢাবি স্টেশন

5

কৃষক দলের উদ্যোগে দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রুহের আত

6

এনসিপি নেতার সমাপনী বক্তব্যে জয় বাংলা, পরে বললেন, ‘সরি, সরি

7

বেগমগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের খেসারত দিলেন আমানিয়া হোটেল

8

ব্রাসেলস সফরে সিনেমা ‘মাস্টার’ টিম

9

৪০ বছর পর আবারও একসাথে অমিতাভ-কমল

10

রামিসা হত্যা: মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন

11

সাভারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

12

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মার্কিন অভিনেত্রী কিয়ানা আন্ডারউড

13

এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন

14

ট্রাম্পের টার্গেটে রয়েছে ৫ দেশ

15

শয়তান যে ধ্বনিতে অস্বস্তিবোধ করে

16

চট্টগ্রামে দুটি মাস্টার ট্যাংকারে এলো ৬৮ হাজার টন ডিজেল

17

বিএনপির নতুন কর্মসূচির ঘোষণা

18

বার্সেলোনায় ২০২৮ পর্যন্ত থাকছেন হান্সি ফ্লিক

19

চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে তদারকির ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রী

20