NNTV
প্রকাশ : Apr 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মাতৃমৃত্যুর হার বাড়ছে যুক্তরাজ্যে, পরবির্তন আসছে স্বাস্থ্য সেবায়

ইংল্যান্ডে মাতৃমৃত্যুর ক্রমবর্ধমান হার কমিয়ে আনতে এবং মাতৃত্বকালীন সেবার মানোন্নয়নে বিশাল পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে এনএইচএস। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটিতে ২৫২ জন প্রসূতি নারীর মৃত্যু হয়েছে, যা ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। প্রতি ১ লক্ষ শিশুর জন্মের বিপরীতে বর্তমানে মৃত্যুর হার দাঁড়িয়েছে ১২.৮ জনে। 

পরিস্থিতির এই ভয়াবহতা স্বীকার করে নিয়ে এনএইচএস-এর প্রধান মিডওয়াইফ কেট ব্রিন্টওয়ার্থ জানিয়েছেন, বর্তমান সেবার মান মোটেও সন্তোষজনক নয় এবং এই ব্যবস্থা আমূল বদলে ফেলার সময় এসেছে।

সেবার এই নতুন রূপরেখায়  ভেনাস থ্রম্বোএমবোলিজম বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইংল্যান্ড বিশ্বের প্রথম স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিটি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তাদের প্রথম প্রসবপূর্ব অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগেই ঝুঁকির মূল্যায়ন করার সুযোগ দেবে। যদি কোনো নারীর রক্তে জমাট বাঁধার উচ্চ ঝুঁকি ধরা পড়ে, তবে তাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সরবরাহ করা হবে। আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই এই সেবাটি সারা দেশে চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বিশেষ নজর দিচ্ছে এনএইচএস। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়মে প্রত্যেক নারীকে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আনা হবে। যদি কারও ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হয়, তবে তাকে দ্রুত এনএইচএস পেরিনেটাল মেন্টাল হেলথ সার্ভিসের বিশেষজ্ঞ দলের কাছে পাঠানো হবে। এ ছাড়া প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ বা অন্য কোনো জটিলতায় আক্রান্ত মায়েরা যাতে খুব দ্রুত অভিজ্ঞ প্রসূতি বিশেষজ্ঞ এবং অ্যানেস্থেটিস্টদের সেবা পান, সেটিও নিশ্চিত করা হবে নতুন এই নীতিমালায়।

 এই নতুন পরিকল্পনা থেকে মৃগীরোগ বা এপিলেপসিতে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার ঘোষণাও এসেছে । ২০২৭ সালের মধ্যে এপিলেপসিতে আক্রান্ত প্রত্যেক নারী স্থানীয় বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে তাদের রোগ ব্যবস্থাপনার সুযোগ পাবেন। গর্ভাবস্থায় খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং গর্ভের সন্তানের জন্য নিরাপদ এমন ওষুধ যাতে সময়মতো পৌঁছানো যায়, তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রতিটি রোগীর জন্য তৈরি করা হবে। এনএইচএস মনে করছে, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো অকাল এবং এড়ানো সম্ভব এমন মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।

প্রধান মিডওয়াইফ কেট ব্রিন্টওয়ার্থ স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, একটি সন্তান হারানো একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের বিষয়। মাতৃত্বকালীন সেবার সাথে জড়িত নেতাদের প্রধান দায়িত্ব হলো কোনো পরিবারকে যেন এই নিদারুণ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে না হয় তা নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আজকের এই ঘোষণার মাধ্যমে ইংল্যান্ডের মাতৃত্বকালীন সেবার ত্রুটিগুলো দূর হবে এবং প্রতিটি মা ও শিশুর জন্য একটি নিরাপদ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আবারও এগিয়ে আর্জেন্টিনা

1

আজ শাকিব খান এর জম্মদিন

2

বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ ৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি-অক্সফ

3

১২ হাজার ৮৫৫ বাংলাদেশি হজযাত্রী পৌঁছেছেন সৌদি

4

যেসব খাবার ফ্রিজে রাখবেন না

5

পলিটিকো জরিপে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে কঠোর বার্তা কানাডিয়ানদের

6

আমির খান  কী তৃতীয় বিয়ের তে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে

7

সিরিয়ায় হত্যাকাণ্ডে নিরাপত্তা কর্মকর্তা গ্রেফতার

8

বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সং

9

সিলেটে যুবক খুন, নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি গ্রেফতার

10

যুদ্ধবিরতির আগে পরিকল্পিতভাবে গাজায় পেতে রাখা হয় ভয়ংকর ট্রাক

11

ইসির কিছু কর্মকর্তা একটি দলের পক্ষে কাজ করছেন এ অভিযোগ তিনি

12

তাহসান স্ত্রী রোজার পুরোনো ভিডিও ভাইরাল

13

আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

14

হাদির কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

15

যে ফর্মুলায় এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

16

কুমিল্লায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত

17

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন

18

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ডিএসসিসি

19

তিনটি শর্ত ও ক্ষতিপূরণ মেনে নিলেই ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি

20