NNTV
প্রকাশ : Feb 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যে বিস্ময়কর স্থাপনা টিকে আছে ১৭শ' বছর ধরে

শ্রীলঙ্কার প্রাচীন রাজধানী অনুরাধাপুরার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জেতবনরামায়া শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়; এটি প্রাচীন প্রকৌশল দক্ষতার এক অসাধারণ নিদর্শন। প্রায় ১৭০০ বছর আগে, খ্রিস্টাব্দ ৩০১ সালে, এই বিশাল স্তূপটির নির্মাণ সম্পন্ন হয়। সেসময় এটি ছিল উচ্চতার দিক থেকে মিশরের গিজার পিরামিডগুলোর ঠিক পরেই, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্থাপনা। 

প্রায় সাড়ে নয় কোটি পোড়া মাটির ইট দিয়ে নির্মিত এই স্থাপনাটি আজও বিশ্বের বৃহত্তম ইটের তৈরি কাঠামো হিসেবে স্বীকৃত। ঐতিহাসিকদের মতে, এই স্তূপটি তৈরিতে যে পরিমাণ ইট ব্যবহার করা হয়েছিল, তা দিয়ে নিউইয়র্ক থেকে পিটসবার্গ পর্যন্ত দীর্ঘ বিশাল প্রাচীর অনায়াসেই তৈরি করা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে আধুনিক যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করছে প্রকৌশল বিদ্যা। আর সেই প্রাচীন যুগে তৈরি স্থাপনা কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই কীভাবে এমন শত শত বছর ধরে টিকে আছে, তা আজও গবেষকদের রীতিমতো অবাক করে দেয়।

বৌদ্ধ ধর্ম ভারতের বাইরে প্রথম যেখানে শিকড় গেড়েছিল সেই পবিত্র ভূমিই অনুরাধাপুরা। পূর্ণিমার দিনগুলোতে এখানে এলে দেখা যায় সাদা পোশাকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এবং গেরুয়া বসনধারী ভিক্ষুদের পদচারণা।

গত দুই হাজার বছর ধরে এখানে পূজা ও আচারের ধারা প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে। জেতবনরামায়া মূলত বিশাল মঠ কমপ্লেক্সের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এখানে এক সময় কয়েকশ ভিক্ষু বসবাস করতেন। এই পুরো মঠ এলাকাটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছিল যাতে ভিক্ষুরা তাদের ঘর থেকে বের হলেই প্রথমে স্তূপটির দেখা পান। যা তাদের নিরন্তর ভক্তি ও মহাজাগতিক শৃঙ্খলার কথা মনে করিয়ে দিত। তবে এই স্থাপত্যের ইতিহাস সবসময় মসৃণ ছিল না। এটি নির্মাণের সময় স্থানীয় রক্ষণশীল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাথে কিছুটা বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পটপরিবর্তনের কারণে এই স্থাপনাটি অবহেলার শিকার হয়।

সময়ের বিবর্তনে এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এক সময় এই বিশাল স্থাপনাটি জঙ্গলে ঢাকা পড়ে। আদি উচ্চতা প্রায় ৪০০ ফুট থাকলেও এখন এটি ধ্বংসাবশেষ এবং সংস্কারের পর প্রায় ২৩৩ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। মাটির ইটের তৈরি হওয়ায় পাথর দিয়ে নির্মিত পিরামিডের চেয়ে এটি প্রকৃতির সাথে লড়াইয়ে অনেক বেশি নাজুক ছিল। তবুও টিকে থাকার এই লড়াই প্রমাণ করে যে তৎকালীন স্থপতিরা কতটা দক্ষ ছিলেন। শ্রীলঙ্কার কেলানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, লক্ষ লক্ষ ইট পরিবহন এবং সেগুলো নিখুঁতভাবে বসানোর প্রক্রিয়াটি ছিল এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। 


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ১৯টি স্বর্ণের বারসহ তিন পাচারকারী আটক

1

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে

2

বাবার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন তারেক রহমান

3

এইচএসসির ফরম পূরণে ফি বৃদ্ধি

4

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ ভারতীয় ক্রিকেট বো

5

যশোরের কেন্দ্রীয় কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির আত্ম

6

সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতারা পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটাচ্ছে

7

শপথ নেননি রুমিন ফারহানা,সংবিধান সংস্কার পরিষদে

8

লিবিয়ায় নিজ বাড়িতে নিহত সাইফ আল ইসলাম

9

পশ্চিমবঙ্গে ৩৯ পাউন্ডের কেক কেটে মেসির ৩৯তম জন্মদিন উদযাপন

10

সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ যোগ দিলেন বিএনপিতে

11

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভ

12

সরকারি সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

13

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

14

নতুন প্রজ্ঞাপন:সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার বাড়তি বেতনসুবিধা

15

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে মৃত জেলিফিশ, জেলে-পরিবেশবিদদের উদ্ব

16

ঢাকায় শীত কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর

17

নিজ দেশে ফুটবল কিংবদন্তি মেসির সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য উন্মোচন

18

‘জুলাই সনদ’বিএনপির হাত ধরেই বাস্তবায়ন হবে: শামা ওবায়েদ

19

মন্ত্রিসভায় শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা যারা

20