সার্চ ও বিজ্ঞাপন খাত থেকে আয় কমে যাওয়ার কারণে পুঁজিবাজারে বড় ধাক্কা খেয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় বাজারদর থেকে রেকর্ড ৫০ হাজার ১০০ কোটি (৫০১ বিলিয়ন) ডলার মুছে গেছে। এ ঘটনায় মূল ব্যবসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা বাদে অ্যালফাবেটের আয় হয়েছে ১১ হাজার ১২০ কোটি (১১১.২ বিলিয়ন) ডলার, যা বিশ্লেষকদের ধারণার চেয়ে কম। সার্চ এবং অন্যান্য মাধ্যম থেকে বিজ্ঞাপন বিক্রির আয়ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এই খাত থেকেই গুগলের মোট আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে, যা প্রতিষ্ঠানটির বিশাল এআই বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ গত পাঁচ প্রান্তিকের মধ্যে এ খাতটিতে সবচেয়ে ধীরগতির প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
বুধবার বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক আয়োজন শেষে গুগলের চিফ বিজনেস অফিসার ফিলিপ শিন্ডলার জানান, গুগল সার্চে নতুন ট্যাব ‘এআই মোড’-এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে তাদের আয়ে প্রভাব পড়েছে। এআইয়ের মাধ্যমে করা প্রশ্নের উত্তরে নগদায়ন বা আয়ের সুযোগ কম বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই সার্চ ইঞ্জিনে আরও বেশি বিজ্ঞাপন যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আশাবাদী।
গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই এআই খাতে ডেটা সেন্টার ও কম্পিউটিংয়ের মতো কাঠামোগত উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন। আগামী দিনের প্রতিশ্রুত এই ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলার বিনিয়োগের ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য এখন তার ওপর চাপ বাড়ছে। ইনভেস্টিং ডটকমের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক টমাস মনটেইরো বলেন, গুগল যদি এআই থেকে সার্চ বিজ্ঞাপনের মতো আয় করতে না পারে, তবে তাদের প্রতিটি মূলধনি ব্যয়ের পূর্বাভাস উচ্চাকাঙ্ক্ষার বদলে শুধু একটি বিল হিসেবেই দেখা দেবে।
প্রতিবেদনের একমাত্র আশার আলো ছিল গুগল ক্লাউড। এই বিভাগটি ৩০০.৭ বিলিয়ন ডলার আয়ের পাশাপাশি ১১.১ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে গুগল ক্লাউডের সবচেয়ে বড় গ্রাহকদের মধ্যে আছে অ্যানথ্রোপিকের মতো স্টার্টআপগুলো, যারা আবার এআই রেসে গুগলেরই প্রতিযোগী।