যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও সংকটাপন্ন সুদানে পবিত্র রমজান উপলক্ষে রোজাদারের পাশে দাঁড়িয়ে ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম ‘টিম হাফেজ্জী’। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, চিকিৎসা সংকট ও বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশার প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি বহুমাত্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
গাজায় ১০ হাজার পরিবারকে ২৫ কেজি করে আটা বিতরণ কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব পরিবারে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাজা ও সুদানে সবজি, ইফতার সামগ্রী ও জরুরি খাদ্যপণ্য বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে অন্তত সাতটি হাসপাতালে সমন্বিত সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চিকিৎসা সহায়তা, পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও স্থানীয় সমন্বয় ও স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে খাদ্য ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ চালিয়ে যাচ্ছে টিম হাফেজ্জী। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেও কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানা যায়।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভিডিও ও মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে তারিখ, দিন ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংযুক্ত রাখা হয়। প্রতিবছর ডিভিসি হোল্ডার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ অডিট সম্পন্ন করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে নীতিগত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
আইনি পরামর্শ ও কাঠামোগত সহায়তার জন্য ব্যারিস্টার মুহসিন রশীদ ও ব্যারিস্টার আশিকুর রহমান সংস্থাটির আইনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংস্থার প্রতিনিধিরা সরাসরি মিশরে গিয়ে সমন্বয় করছেন। শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় বিমানযোগে মিশর হয়ে গাজা ও সুদান ভূখণ্ডে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।