শেরেবাংলা কাপে যশোর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।হাতীর পিঠে ওদের চড়িয়ে সম্মান দেয়া হয়েছিল। রংপুর বিভাগের দিনাজপুর ও রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ ৬৪ জেলার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ হয়ে কি পেয়েছে ? টাকা,সম্মান বা ভালবাসা? ভালোবাসাটাই দিলে ওরা সম্মানিত হবে। গ্রামীণ ফুটবল বিপ্লবী জালাল হোসেন লাইজুর তথ্য মতে ১৯৭১ পরবর্তী বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাস বিকশিত হবার পথে বেশকিছু ফুটবলারের অনবদ্য নৈপুণ্য যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশটির মানচিত্রকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পরিসরে উল্লেখযোগ্য পরিচিতি এনে দেয়। ছোট বাদল (বাদল রায়), সালাম, মোসাব্বের, গাফ্ফার, দিলীপ, কোহিনুর ও ইউসুফদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী দলটির। ১৯৮২ সালে বিদেশের (ভারত) মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম ক্লাব হিসাবে ঢাকা মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়ান করে নিয়ে আসে, এই দলটির আক্রমণভাগের ক্ষিপ্র (দ্রুতগতির), সুঠামদেহী ও পরিশ্রমী একজন খেলোয়াড় ছিলেন কোহিনুর রহমান। কোহিনুরের ফুটবলে হাতেখড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ে। কোহিনুর খুব অল্প বয়স থেকে তার নৈপুণ্যের দ্যুতি ছড়াতে থাকেন দলের ফুটবল অঙ্গনে। ঢাকা, খুলনা, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলার লীগে ও টুর্নামেন্টে নজরকাড়া নৈপূণ্য ১৯৭৫ সালে তাকে ঢাকা দ্বিতীয় বিভাগ লীগের দল সাধারণ বীমায় খেলার সুযোগ করে দেয়।
এছাড়া কোহিনুর রহমান জাতীয় দল, শান্তিনগর ক্লাব, ঢাকা ওয়াপদা ও ঢাকা মোহামেডান ক্লাবের হয়ে খেলে দেশে ও বিদেশে বেশ প্রশংসা ছড়িয়ে ছিলেন। ১৯৭৫ সালে ঢাকা দ্বিতীয় বিভাগ লীগের দল সাধারণ বীমায় খেলার পরের বছর শান্তিনগর ক্লাবে যোগ দেন। শান্তিনগরের হয়ে ১৯৭৬ সালে আগাখান গোল্ডকাপে তিনি বিশেষ নৈপূণ্য দেখান । থাইল্যান্ডের রাজবিথী ক্লাবের বিপক্ষে দ্রুতগতিতে গোল করেন তিনি। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন নামী দল ঢাকা ওয়াপদার হয়ে আগাখান গোল্ডকাপে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে লীগে তিনি ৮টি গোল করেন, যার মধ্যে দিলকুশার বিরুদ্ধে
কোহিনুরের সাফল্যগাঁথা ক্যারিয়ারের একটি অধ্যায়ভিত্তিক পর্যালোচনার দাবি রেখে তার খেলোয়াড়ী গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা প্রবাহ উল্লেখযোগ্য। কোহিনুরের উল্লেখযোগ্য সাফল্য :
ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান দলের সদস্য ৮০, ৮১ , ৮২ । লীগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান দলের সদস্য ৮০, ৮২। বাংলাদেশের প্রথম ক্লাব হিসাবে ঢাকা মোহামেডান ভারতে চ্যাম্পিয়ন হয়, তিনি সে দলের সদস্য।
মীর ক্রিস্টের জাতীয় দলের হয়ে সবুজ দলের পক্ষে, ৮১ সালে প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপে অংশগ্রহণ করেন।
তৎকালীন সময়ে রাজ-এর প্রচ্ছদে কোহিনুর একটি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে শেরেবাংলা জাতীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে টাঙ্গাইলের বিরুদ্ধে গোল করে রংপুরকে ফাইনালে নিয়ে আসে। কিন্তু ফাইনালে তার দল বরিশালের সাথে ১-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি '৭৮-এর লীগ চ্যাম্পিয়ন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান দলে যোগ দেন। ঢাকা লীগের প্রথম খেলায় ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে লীগে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন কোহিনুর । রংপুর ফুটবল লীগ ৮০তে নবাবগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন কোহিনুর। ১৯৮১ সালের লীগে প্রথম খেলায় দিলকুশার বিপক্ষে মোহামেডানের হয়ে লীগের প্রথম গোলটি করেন। ১৯৮২ সালে লীগের শেষ খেলায় আবাহনীর বিরুদ্ধেও গোল করেন তিনি। বন্ধুমহলে 'ইট পেটিস' বলে পরিচিত
১৯৮১ সালে জাতীয় দলের হয়ে পাকিস্তানে কায়েদে আজম ট্রফি খেলেন।
বাংলাদেশ ফুটবলের বর্তমান যে গোছালো পরিবেশ বিদ্যমান সেটিকে রূপদান করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তা আমরা ভুলতে বসেছি। দেশের ক্রীড়াজগত পটে আমরা কোহিনুর রহমানের মতো তারকা ফুটবলাদের নৈপুণ্য প্রদর্শনের ইতিহাসকে সঠিক মূল্যায়ন করতে পারিনি। দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অতীতের সকল তারকা ফুটবলারদের সংগঠনের ভূমিকায় এসে দেশি ফুটবলার গড়ার তৃণমূল পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি ও একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে। একটি বল একটি গ্রাম ফুটবল নগরি কুড়িগ্রাম এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চরম দারিদ্র্যতাকে পাশ কাটিয়ে আশা জাগিয়ে তুলছে কুড়িগ্রামের ফুটবল। সাবেক ফুটবলার কোহিনুর রহমানের মত অসংখ্য খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে এই কুড়িগ্রামে।