NNTV
প্রকাশ : Jan 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

১২ ঘণ্টায় ৯ বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভারত

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানে দফায় দফায় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল তাজিকিস্তান-শিনজিয়াং সীমান্তবর্তী অঞ্চল। 

অন্যদিকে ভারতের গুজরাট রাজ্যে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৯ বার ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) জানিয়েছে, ভোরে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে যে, এই কম্পনের প্রভাব পাকিস্তান ছাড়াও তাজিকিস্তান, চীন ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ইসলামাবাদ ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল কম্পন অনুভূত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। 

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তান তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিকে অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরেও দেশটিতে যথাক্রমে ৩ দশমিক ২ এবং ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।

একই সময়ে ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজকোট জেলায় ঘন ঘন ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে মোট ৯টি কম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। রিখটার স্কেলে এই কম্পনগুলো ‘মাইক্রো’ বা ‘মাইনর’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় কোনো জানমালের ক্ষতি না হলেও জনমনে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। 

রাজকোটের এই কম্পনগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল উপলেতা শহরের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ২৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার গভীরে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে প্রথম কম্পন অনুভূত হয় এবং শুক্রবার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে সর্বশেষ দফার কম্পন রেকর্ড করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা রাজকোটে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এতগুলো কম্পনের ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে অভিহিত করেছেন। সাধারণত গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলে এই ধরনের ভূকম্পন বেশি দেখা গেলেও রাজকোটের এই ধারাবাহিকতা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

ভারত ও পাকিস্তানের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলজুড়ে ভূমিকম্প প্রতিরোধ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে চলে এসেছে। আবহাওয়া দপ্তরগুলো জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী কম্পন মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সমীরণ দেওয়ান নতুন সুরের জাদু নিয়ে

1

ঈদের ছুটি কাটিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু

2

পলাতক ব্যক্তিরা হতে পারবেন না ভোট প্রার্থী

3

মির্জা ফখরুল গেলেন চীন সফরে

4

হাইমচর সমিতির দুইদিনব্যাপী শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু মো

5

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজে নবীন বরণ ও আইসিইউ সম্প্রসারণ উদ্বো

6

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমেছে

7

উপদেষ্টা শারমীন বলেছেন বাংলাদেশ এখন বদলে যাওয়ার পথে

8

হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা, ক্রিকেটারকে তলব

9

এগিয়ে রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি প্রার্থী জনপ্রিয় নেত্র

10

উত্তর কোরিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট

11

আজকের নামাজের নির্ধারিত সময়সূচি

12

দেশের আট অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

13

তারেক রহমান দুঃখ প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হাদি গুলিবিদ্ধ

14

চার সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ববাজারে সর্বোচ্চ তেলের দাম

15

বাস ভাড়া বৃদ্ধিতে ছাত্রশক্তির মাহফুজ এর তীব্র নিন্দা

16

ইরানে স্টারলিংক ব্যবহার করে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে বেশ কয়েকজন

17

দেশের কয়লা-গ্যাস দখলে দেশি ওবিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

18

পাকিস্তানে শপিংমলে আগুন, ৫ জনের মৃত্যু

19

নিয়মিত পানি পান না করলে শরীরে যে মারাত্মক ক্ষতি হয়

20