NNTV
প্রকাশ : Aug 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরে ভাড়াটে খুনি দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে লোক দিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি ও জামায়াত নেতা আবু বকর ছিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত সোমবার তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক সাদেকুর রহমান সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন ও একই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে। আদালত সূত্র জানায়, সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আবু বকর চার্জশিটভুক্ত আসামি। ওই নারীকে গোপনে বিয়ে করেন তিনি, পরে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। জমি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মো. সেলিম নামে ভাসমান এক ব্যক্তিকে দিয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহাকে হত্যা করান। 

চার্জশিট ও থানা পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে পরিত্যক্ত একটি ভিটায় সাহেলা বেগমের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতদের নামে মামলা করেন। কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়। সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেলিম স্বীকার করে, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে তিনি গলা টিপে অচেতন করে। পরে তাকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যায়।

চার্জশিটে উল্লেখিত সেলিমের জবানবন্দি অনুযায়ী, সালেহার সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু জমি কিনে না দিয়ে উল্টো আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে। এনিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আবু বকর ছিদ্দিক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য সেলিমকে ভাড়া করে। সেলিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে থানা পুলিশ সেলিম এবং আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আসামি সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। 

বাদির আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। হত্যা মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। 

ভিকটিম সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম জানায়, আসামি আবু বকর ছিদ্দিক জামায়াতের রাজনীতি করলেও সে লম্পট প্রকৃতির। এ পর্যন্ত সাতটি বিয়ে করেছে। অর্থের লোভে পড়ে সবার অজান্তে সে তাদের মাকেও বিয়ে করে। একপর্যায়ে আবার ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। এনিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সে ভাড়াটে লোক দিয়ে তাদের মাকে হত্যা করিয়েছে। এতে তারা আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে বাদ পড়লেন ভারতীয় উপস্থাপক

1

দুর্গাপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ব

2

১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

3

বাহামাসে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ জন নিহত

4

কুষ্টিয়ায় দুর্বৃত্তরা কেটে দিল কৃষকের পেঁয়াজের চারা

5

ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি হবে সাতক্ষীরার আম

6

কাতারের দোহায় একাধিক বিস্ফোরণ

7

জেনে নিন খোসাসহ পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা

8

কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে উত্তীর্ণ মানিকগঞ্জের উজ্জ্বল ভূঁইয়া

9

শিশুর ক্ষতির কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি

10

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কাজী মনিরুজ্জামানের তীব্র নিন্দা ও প্রতি

11

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই: প্রধান উপ

12

পুলিশের অভিযানে রাজশাহীতে গ্রেফতার ১৯

13

ফতুল্লায় পোশাক কারখানার স্টোররুমে মিলল কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদ

14

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

15

নতুন রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায় বাংলাদেশ

16

একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে দেশে বিভাজনের পথ সৃষ্টি করতে চায়: মি

17

সিংড়ায় কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা

18

বগুড়ার শিবগঞ্জে ট্রাকচাপায় একজন যুবক নিহত

19

ই-রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে চালু হচ্ছে নিবন্ধন আইন সংশোধন

20