নতুন ভেন্যু ‘জেনেরালি স্টেডিয়াম’-এর নকশা উন্মোচন করেছে ইতালিয়ান ফুটবল ক্লাব ইন্টার এবং এসি মিলান। ২০৩১-৩২ মৌসুম থেকে এটি আইকনিক সান সিরো স্টেডিয়ামের জায়গা নেবে। মিলানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থপতি নরম্যান ফস্টার জানান, স্টেডিয়ামটির মূল অংশটির গঠন নিচু থাকবে এবং গোলপোস্টের পেছনের দুই প্রান্ত ওপরের দিকে উঠে যাবে।
এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত স্টেডিয়াম বিশেষজ্ঞ ডেভিড ম্যানিকা জানান, নকশাটির মূল লক্ষ্য হলো দর্শকদের মাঠের যতটা সম্ভব কাছাকাছি নিয়ে আসা। এতে গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারিগুলো ৩৭ ডিগ্রি খাড়া কোণে স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের নকশা করার সময় আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উপলব্ধি করেছি তা হলো সান সিরো কেবল একটি ভবন নয়, এটি একটি অনুভূতি।
এই স্টেডিয়াম বিশেষজ্ঞ জানান, এটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং একটি অনুভূতি। আমাদের মূল কাজ ছিল সেই অনুভূতিকেই নতুন ভবনের মধ্যে নিয়ে আসা। আমরা সব আসন মাঠের যতটা সম্ভব কাছাকাছি নিয়ে এসেছি। এর চেয়ে বেশি কাছে আনা আর সম্ভব নয়; মনে হবে যেন আপনি সরাসরি ঘাসের ওপরই বসে আছেন। ম্যানিকা জানান, নকশা প্রণয়নের সময় তারা ‘নৈকট্য’ বা মাঠের কাছাকাছি থাকার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। শব্দ বিন্যাস বা অ্যাকোস্টিকসের দিকেও তারা বিশেষ নজর দিয়েছেন। স্টেডিয়ামের ছাদটি গ্যালারিগুলোকে ঢেকে রাখবে, কেবল মাঠের অংশটি খোলা থাকবে। ম্যানিকার মতে, এই নকশা দর্শকদের গর্জন বা উল্লাসকে আরও জোরালো করে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের অন্যান্য নতুন স্টেডিয়ামের তুলনায় এটি অনেক বেশি খাড়া। এটি ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয়েছে, যাতে আসনগুলোকে মাঠের ওপরের দিকে যতটা সম্ভব এগিয়ে আনা যায় এবং একটি নিবিড় পরিবেশ ও আবহ তৈরি করা সম্ভব হয়।
ইতালীয় বিমা কোম্পানি ‘জেনেরালি’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত এই স্টেডিয়ামে আমেরিকান ফুটবল, রাগবি ম্যাচ এবং কনসার্টের মতো অনুষ্ঠানও আয়োজন করা যাবে। ম্যানিকা বলেন, আমি চাই দর্শকরা নতুন স্টেডিয়ামে এসে সেই আগের উত্তেজনা অনুভব করুক। তারা যেন বুঝতে পারে, বর্তমান সান সিরোর মতোই এই নতুন ভবনটিও তাদের সঙ্গে যেন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে, যেন এটি তাদের সঙ্গেই শ্বাস নিচ্ছে।
এসি মিলান এবং ইন্টার বর্তমান স্টেডিয়াম ও এর সংলগ্ন পার্কিং এলাকাটি ১৯৭ মিলিয়ন ইউরো (২১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দিয়ে কিনে নিয়েছে। এখানেই তারা তাদের নতুন যৌথ স্টেডিয়ামটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। নতুন সান সিরো স্টেডিয়ামের প্রকল্পটিতে ৭১,৫০০টি আসন থাকবে। বর্তমান স্টেডিয়ামে ৭৫,০০০টি আসন রয়েছে এবং এর জন্য দুই ক্লাবের মোট ১.২ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় হবে। ২০২৮ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের কাজে ফস্টার এবং ম্যানিকা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। মিলানের বর্তমান স্টেডিয়ামটি ইতালির বৃহত্তম স্টেডিয়াম; ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম আইকনিক এই ভেন্যুকে প্রায়শই একটি ‘কংক্রিটের ক্যাথেড্রাল’ বা গির্জার সঙ্গে তুলনা করা হয়। ১৯২৬ সালে চালু হওয়া এই স্টেডিয়ামটিতে কয়েক দশক ধরে বেশ কয়েকবার সংস্কারকাজ চালানো হলেও, এটি এখন আর দর্শক বা ক্লাবগুলোর চাহিদা মেটাতে পারছে না। নতুন স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে সান সিরো। যা জিউসেপ্পে মেয়াজ্জা স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত। তার বড় একটি অংশ ভেঙে ফেলা হবে।