NNTV
প্রকাশ : Jan 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচনী প্রার্থীরা কী করতে পারে, কী করতে পারে না

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ র্নিবাচনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। শুরু হল র্নিবাচনী প্রচারণা। নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে। অর্থাৎ প্রচারণার জন্য ২০ দিন সময় পাচ্ছেন প্রার্থীরা।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সব প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আচরণ বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বানও জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

এবারের নির্বাচনে পোস্টারও ব্যবহার করতে পারবেন না প্রার্থীরা, যে নিষেধাজ্ঞা দেশে প্রথমবার কোনো নির্বাচনে দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচনী জনসভা বা সমাবেশ আয়োজনে দলগুলোর কোনো বাধা নেই। তবে সভা-সমাবেশ আয়োজন করার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জনসভার দিন-তারিখ ও সময়-লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

তবে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারবেন না প্রার্থীরা। সড়ক, মহাসড়কে কিংবা জনপথে জনসভা বা পথসভা করলেও ব্যবস্থা নেবে ইসি। নিষিদ্ধ করা হয়েছে প্রার্থীর পক্ষে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনের সুযোগ।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, পোস্টার নির্বাচনী প্রচারের অবিচ্ছেদ্য অংশেই পরিণত হয়েছিল। তবে এবার সেই পোস্টারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রার্থীরা পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। নযেকোনো ধরনের প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন, রেকসিন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে একজন প্রার্থী তার আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার কোনোটিই দৈর্ঘ্যে ১৬ ফুট ও প্রস্থে ৯ ফুটের বেশি নয়। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারে ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনেও থাকছে নানা বিধিনিষেধ।

আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, ব্যানার-লিফলেট-হ্যান্ডবিল-ফেস্টুন হতে হবে সাদা-কালো। ব্যানার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট হতে পারবেন। লিফলেট বা হ্যান্ডবিলের আয়তন হতে পারে সর্বোচ্চ এ-ফোর আকৃতির। আর ফেস্টুনের সর্বোচ্চ মাপ বেঁধে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চিতে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপানো যাবে না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে শুধু পোর্ট্রেট আকারে। প্রচারে ব্যবহার করা ছবির আয়তন সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার হতে পারে।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা তাদের প্রচার সামগ্রীতে কেবল দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৩ (তিন) মিটারের বেশি হতে পারবে না।

প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট বা প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থী, দল বা সংশ্লিষ্ট পেজের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে। এছাড়া অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না।

ঘৃণাত্মক, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রচার করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে নির্বাচনি আচরণবিধিতে। প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক, উসকানিমূলক ভাষাও ব্যবহার করা যাবে না। অপব্যবহার করা যাবে না ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতি। সব প্রচার কনটেন্ট প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে; মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করা যাবে না।

গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে এবার নতুন ধারা যুক্ত করে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে বলে ইসির আচরণবিধিতে জানানো হয়।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারে বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন নিয়ে কোনো মিছিল, জনসভা কিংবা কোনো শোডাউনে ‘না’ করা হয়েছে। প্রচারে যানবাহন সহকারে কিংবা যানবাহন ব্যতীত কোনো ধরনের মশাল মিছিলও করা যাবে না।

এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কাউকে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, প্রচারে তোরণ নির্মাণ কিংবা আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ থাকবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই দেওয়া হতে পারে। দলের ক্ষেত্রেও এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাভার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক র

1

জাগরণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের তৃতীয় বাঁশি উৎসবের চূড়ান্ত প্রস্ত

2

লেবানন যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ: বাঘের গালিবাফ

3

গাজীপুরে বাসায় ইয়াবার কারখানা,৪ হাজার পিস ট্যাবলেট উদ্ধার

4

টাঙ্গাইলে অপারেশনের আগে ইনজেকশন দেওয়ার পর শিশুর মৃত্যু

5

যেসব এলাকায় আজ দেওয়া হবে ফ্যামিলি কার্ড

6

ড. আব্দুল মঈন খানকে রাষ্ট্রপতি করার দাবিতে নরসিংদী সহ সারা দ

7

নরসিংদীতে ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজন নিহত

8

চীন-ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা

9

কৃষিপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে বকুল এমপিকে চায় নেতাকর্মীরা

10

গোপন সফরে ইসরাইলে তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

11

নির্বাচন কী হবে ,কেন এই প্রশ্ন

12

রোগ-ব্যাধি নিয়ে মুমিনের বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি

13

ইইউ এর অনুসন্ধান অনুযায়ী নির্বাচনী পরিবেশ খুবই ইতিবাচক

14

পুঁজিবাজারে লেনদেন চলছে সূচকের উত্থানে

15

ইসরায়েলিরা ট্রাম্পকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলছেন : দ্য গার্ডিয়ান

16

ছয় জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

17

নারায়ণগঞ্জে ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে বিক্ষোভ মিছিল

18

যথেষ্ট সুন্দরী' নন, তাই সিনেমা থেকে বাদ পড়েন অস্কারজয়ী অভি

19

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

20