
দেশের সবচেয়ে বড় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমে টেকনিক্যাল ও কর্মমুখী কোর্স যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ২ হাজার ২৮৪টি। এতে ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যা দেশের মোট উচ্চশিক্ষার্থীর প্রায় ৭০ শতাংশ। এদের বেশিরভাগই মধ্য ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। পুরনো ও গতানুগতিক সিলেবাসে পড়াশোনা শেষে অনেকেই বেকার থাকছেন, মূলত কারিগরি বিষয় ও ইংরেজিতে দক্ষতার অভাবে।
এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযোগী করতে কারিকুলাম আধুনিক ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি টেকনিক্যাল কোর্স যুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় আউটকাম-বেইজড কারিকুলাম রিভিউ ও আপডেট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্নাতক পর্যায়ে ২য় বর্ষে অ্যাডভান্সড আইসিটি এবং ৩য় ও ৪র্থ বর্ষে কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সোশ্যাল বিজনেস, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, ডাটা অ্যানালিটিক্স ও কম্পিউটার প্রোগ্রামিং উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি সাইবার সিকিউরিটি, ডিজিটাল ওয়েলবিয়িংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক বিষয়ও যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া সফট স্কিলসের আওতায় যোগাযোগ দক্ষতা, কগনিটিভ এমপাওয়ারমেন্ট, টাইম ম্যানেজমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও লিডারশিপের মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই প্রোগ্রাম এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ সহযোগিতা করছে।
কারিকুলাম উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে অংশগ্রহণমূলক করতে তিনদিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা দূর করা, তবে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান প্রশাসন কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সময়োপযোগী শিক্ষাক্রম সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, যা মাইলফলক হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে সময়োপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন হবে, যা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে দেশ পিছিয়ে আছে। তবে বর্তমানে গৃহীত উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াবে।
তিনি জানান, গত প্রায় দুই বছরে ৩০টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ইতোমধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি, বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয় এবং আইসিটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তৃতীয় ভাষা শেখানোর বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।
তিনদিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, এটুআই প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রফিক এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমানুয়েল আব্রিউক্স।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।