প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 4, 2026 ইং
জাপানে কর্মসংস্থান বাড়াতে কমিটির প্রথম সভা

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বিদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো যাবে না।
বুধবার ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বিদেশি কর্মীর চাহিদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শতভাগ শ্রম অধিকার ও উচ্চ বেতনের নিশ্চয়তা থাকায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জাপান বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি শ্রমবাজার।
এখন থেকে আমাদের মালয়েশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর শ্রমবাজারের দিকে আরও বেশি জোর দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জাপান প্রধানত চারটি ভিসা ক্যাটাগরিতে কর্মী গ্রহণ করে থাকে। যথা : Technical Intern যা ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে পরিবর্তিত হয়ে Employment for Skill Development (ESD), Specified Skilled Worker, Engineers/ Specialist in Humanities/ International services এবং Student। Japan Times এর ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ এর প্রতিবেদন অনুসারে বর্ণিত চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে শুধুমাত্র ESD এবং SSW ক্যাটাগরিতে আগামী মার্চ ২০২৯ সালের মধ্যে জাপান ১২ লক্ষের অধিক বিদেশি কর্মী নিয়োগ করবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সর্বশেষ জনশুমারি মোতাবেক দেশের অভ্যন্তরের শ্রমিকের চাহিদা পূরণের পর বর্তমান প্রায় ২.৫ কোটি অতিরিক্ত working-age population রয়েছে। দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে যার একটি বিরাট অংশ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণপূর্বক জাপানি কোম্পানির নিকট থেকে চাহিদা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা গেলে জাপান শ্রমবাজারের এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন আরও লক্ষাধিক কর্মী প্রেরণ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি বাংলাদেশি কর্মীর প্রবাসে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জাপানি ভাষা শিক্ষক/প্রশিক্ষক নিয়োগ ও চাহিদা অনুসারে দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুতকরণ, জাপানে ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় শিক্ষার্থী প্রেরণের হার বৃদ্ধিকরণ, বাংলাদেশে Specified Skilled Worker(SSW)-এর ১৬টি ফিল্ডের মধ্যে ৬টির টেস্ট গ্রহণ করা হবে। অপর ১০টি ফিল্ডের স্কিল টেস্ট শুরুকরণ, ঢাকায় জাপান ফাউন্ডেশনের অফিস স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, SSW ও ESD পদ্ধতির জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ পূর্বক জাপানি কোম্পানির নিকট থেকে কর্মীর চাহিদা সংখ্যা বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ, বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানের ভাষা প্রশিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধকরণ, শ্রমবাজার সার্চ করে জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিবেদন প্রেরণ করবে এবং জাপানিজ ভাষা টেস্টের আসন সংখ্যা ও টেস্ট সেন্টার বৃদ্ধি করা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
এছাড়াও পর্যায়ক্রমে সকল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রতে (টিটিসি) জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশী জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ করা। সরাসরি নিয়োগের পাশাপাশি ‘ভার্চুয়াল টিচিং’ প্ল্যাটফর্মে জাপানিজ প্রশিক্ষক নিয়োগ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় কমিটির সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী, জাপানের ঐতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুল ফ্যাকাল্টি ড. মো শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার NNTV