প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 13, 2026 ইং
এলপিজির তীব্র সংকট নিরসনে আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে বিপিসি

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া বাজারের বাইরে সরবরাহ বাড়াতে সরকার জিটুজি প্রক্রিয়ায় এলপিজি আমদানির চিন্তা করছে বলে জানান অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে।
বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দামের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। এই বাস্তবতায় সরকারি পর্যায়ে আমদানির মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা করাই বিপিসির মূল লক্ষ্য।
বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান ১০ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। বেসরকারি অপারেটরদের অনেকেই নানা জটিলতায় নিয়মিত আমদানি করতে পারছে না, যার সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।
বিপিসি চেয়ারম্যানের মতে, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা গেলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা বাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। তবে বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করেই এই বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এই উদ্যোগের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে, সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রাহকদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি দিতে সরকার আপাতত কেবল আমদানির দায়িত্ব নেবে; তবে সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই হবে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক মনে করেন, বিপিসি আমদানি শুরু করলে ভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং খাতের চলমান অস্থিরতা দূর হবে।
বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নার কাজে। ২০৩০ সাল নাগাদ এই চাহিদা ৩০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, বিপিসি আমদানিকৃত গ্যাস সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা না করলে বাজারের মূল সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হতে পারে।
বর্তমানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাজারে তা অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিপিসির এই নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে সরকারি উৎস থেকে এলপিজির জোগান বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার NNTV