প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 7, 2026 ইং
লালমনিরহাটে তাপমাত্রা নেমে ৯ ডিগ্রিতে

হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। টানা কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, শিশু ও বয়স্করা, যাদের জন্য এই কনকনে শীত বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজারহাট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৬টায় লালমনিরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। তাপমাত্রা ক্রমাগত নিম্নগামী হওয়ায় জেলাজুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।হিমালয়ঘেঁষা অঞ্চল হওয়ায় প্রতিবছর শীত মৌসুমে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। ভোর ও রাতের বেলায় শিশির পড়ছে বৃষ্টির মতো। কোথাও কোথাও টিনের চালের ওপর শিশির ঝরার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও অনেক সময় সূর্যের দেখা মিলছে না।
ঘন কুয়াশার কারণে রাত ও ভোরের দিকে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক যানবাহন অতিরিক্ত ও রঙিন লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। চলমান শীতে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া এবং বয়স্ক ও অ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা মেসলেমা আক্তার বলেন, ‘আমার দুই বছরের ছেলে কয়েকদিন ধরে সর্দি-কাশিতে ভুগছে। নিউমোনিয়া যেন না হয়, সেজন্য খুব সতর্ক থাকতে হচ্ছে।’কালীগঞ্জের কাকিনা এলাকার কৃষক এনামুল হক বলেন, ‘দুই দিন ধরে সূর্য উঠছে না। ক্ষেতে কাজ করতে পারছি না। বেশি শীত হলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’লালমনিরহাটের গোকুন্ডা এলাকার কৃষক বজলার রহমান জানান, এক সপ্তাহ কনকনে ঠান্ডার পর আবহাওয়া একটু ভালো হয়েছিল। কিন্তু রবিবার সকাল থেকে আগের চেয়েও বেশি ঠান্ডা অনুভ‚ত হচ্ছে। ঠান্ডার কারণে মাঠে কাজ করা যাচ্ছে না।রিকশাচালক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঠান্ডার কারণে মানুষ খুব কম বের হচ্ছে। যাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় আয় কমে গেছে। সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় এবং উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল বাতাসের প্রভাবে লালমনিরহাট ও আশপাশের জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসে আরও এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।’
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার NNTV