প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 4, 2026 ইং
ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে নিহত ২ জন

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (৪ জানুয়ারি) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হামলার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে এক বছর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, এসব অভিযানে মূলত হিজবুল্লাহর অবস্থান ও সদস্যদের লক্ষ্য করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী পাঁচটি কৌশলগত এলাকায় এখনও ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে জ্মাইজমেহ শহরের কাছে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো ‘ইসরায়েলি শত্রু বাহিনীর হামলায়’ দুইজন প্রাণ হারান।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতায়” ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর এক সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপ এবং বড় পরিসরের ইসরায়েলি অভিযানের আশঙ্কার মুখে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষে, যার মধ্যে টানা দুই মাসের প্রকাশ্য যুদ্ধও ছিল, হিজবুল্লাহ মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই যুদ্ধের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে।
লেবাননের সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ইসরায়েল সীমান্তবর্তী লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল—সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা—হিজবুল্লাহমুক্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য এলাকায় নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম চালানো হবে।
এদিকে সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার লেবাননের মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কমিটি—যার সদস্য লেবানন, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী—চলতি সপ্তাহেই বৈঠকে বসবে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্বীকার করেন, লেবানন সরকার ও সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র করতে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তার ভাষায়, এসব প্রচেষ্টা “পর্যাপ্ত নয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের সহায়তায় হিজবুল্লাহ পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ ও শক্তি পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এর আগে ইসরায়েল একাধিকবার লেবাননের সেনাবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং হিজবুল্লাহ গোপনে পুনরায় অস্ত্র মজুত করছে বলে অভিযোগ করেছে। তবে হিজবুল্লাহ বরাবরই অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ৩৫০ জন নিহত হয়েছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার NNTV