গাজা সিটিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঠিক আগমুহূর্তে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি নতুন ও ভয়ংকর রণকৌশলের তথ্য উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল সাধারণ সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও ভারী ট্রাককে রূপান্তর করে সেগুলোতে এক থেকে তিন টন পর্যন্ত বিস্ফোরক বোঝাই করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহার করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ করে তেল-আল-হাওয়া ও সাবরা এলাকায় এই ধরনের ‘ট্রাক বোমা’ ব্যবহারের ফলে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং শত শত ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।
গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগের সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটির কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বিমান হামলার পাশাপাশি এসব বিস্ফোরকবোঝাই এপিসি ও ভারী বুলডোজার ব্যবহার করে বিস্তীর্ণ এলাকা গুঁড়িয়ে দেয়। উপগ্রহচিত্র ও ড্রোন ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তেল-আল-হাওয়ার মতো একসময় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হেশাম মোহাম্মদ বাদাবি রয়টার্সকে জানান, কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ধারাবাহিক বিস্ফোরণে তার পাঁচতলা ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে বিস্ফোরিত সাঁজোয়া যানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে ভবনগুলো পরিকল্পিতভাবে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকভর্তি যান ব্যবহার করে ধ্বংস করা হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবহুল এলাকায় কয়েক টন বিস্ফোরক ব্যবহার অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামাসের পাতা ফাঁদ নিষ্ক্রিয় করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারী বোমা সরবরাহ স্থগিত হওয়ার পর ইসরায়েল বিকল্প হিসেবে এই স্বল্পপ্রযুক্তির কিন্তু বিধ্বংসী পদ্ধতির দিকে ঝুঁকেছে।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, এসব অভিযানের ফলে গাজা সিটির অন্তত ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট সামরিক প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
